kalerkantho


ইসরায়েল-হামাস তীব্র সংঘর্ষ আরো সাত ফিলিস্তিনি নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইসরায়েল-হামাস তীব্র সংঘর্ষ আরো সাত ফিলিস্তিনি নিহত

গাজার খান ইউনিস এলাকায় সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘর। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার তীব্রতা পুরোদমে সংঘাতের দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। রবিবার রাতের পর সোমবারও রাতভর দুই পক্ষের হামলা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজায় ছয়জন এবং ইসরায়েলে একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে। উভয় দিকে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ।

রবিবার মধ্যরাতে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এক হামাস কমান্ডারসহ সাত ফিলিস্তিনি এবং এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়। জবাবে হামাস ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা শুরু করে এবং এর পর থেকে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত আছে। উভয় পক্ষের হামলার তীব্রতা বাড়তে থাকায় গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে ইসরায়েলে ৪০০ রকেট ও মর্টার ছুড়েছে হামাস। এগুলোর মধ্যে ১০০টি রকেট প্রতিহত করেছে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর বেশির ভাগই খোলা জায়গায় পড়েছে এবং কিছু কিছু রকেট ও মর্টার ইসরায়েলের বিভিন্ন বাড়ি ও অন্যান্য ভবনে আঘাত করেছে। এতে ইসরায়েলের আশকেলন শহরে এক ফিলিস্তিনি শ্রমিক নিহত হয়েছে। ওই ফিলিস্তিনি ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া আহত হয়েছে ২৭ জন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবেইদা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘শত্রুপক্ষ আবাসিক ভবনগুলোয় হামলা অব্যাহত রাখলে’ হামাসের হামলার তীব্রতা আরো বাড়ানো হবে।

হামলা চলছে ইসরায়েলের দিক থেকেও। গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সদর দপ্তর ও হামাসের আল আকসা টিভি স্টেশনসহ বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ব্যাপক পরিসরে বিমান হামলা চালায়। গাজায় সব মিলিয়ে প্রায় দেড় শ অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের হামলায় গাজায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনকে নিজেদের সদস্য বলে দাবি করেছে বিভিন্ন ইসলামী গোষ্ঠী। এ ছাড়া ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ২৫ ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জনাথন কর্নিকাস বলেন, ‘(গত সোমবার) রাতভর হামলায় আমরা হামাসকে বুঝিয়ে দিয়েছি, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে এবং হামাস নিয়ন্ত্রিত সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক পরিসরে হামলার সক্ষমতা আমাদের আছে।’

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গত সোমবার রাতে এক টুইটে ইসরায়েলি সেনা ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধির পরিস্থিতিকে ‘চরম বিপজ্জনক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন এবং সব পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৪ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও হামাসের সংঘর্ষের পর এবারের সংঘর্ষকে সবচেয়ে ভয়াবহ অ্যাখ্যা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। এ সংঘর্ষ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে যাচ্ছে জাতিসংঘ ও মিসর। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য