kalerkantho


শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকট

প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে বিরোধীরা

সিরিসেনা দুইবার সংবিধান পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনার পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের সমর্থকরা গতকাল সোমবার এ চ্যালেঞ্জ জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে দেশটির চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট আরো ঘনীভূত হলো।

গত শুক্রবার রাতে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন সিরিসেনা। এর দুই সপ্তাহ আগে বিক্রমাসিংহেকে বহিষ্কার করে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী বানান তিনি।

এ অবস্থায় গতকাল পার্লামেন্টের তিনটি বড় দলের ১১ নেতা ও একজন নির্বাচন কমিশনার সুপ্রিম কোটের দ্বারস্থ হন। তাঁরা সিরিসেনার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাঁচ পৃষ্ঠার আবেদনপত্রে (পিটিশন) নির্বাচন কমিশনার রত্নজীবন হুলে বলেছেন, সিরিসেনা দুইবার সংবিধান পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমবার বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে এবং দ্বিতীয়বার পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে ৫ জানুয়ারি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে।

যে তিনটি দল আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে, তার মধ্যে বিক্রমাসিংহের ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি’ (ইউএনপি) ছাড়াও আছে ‘তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ (টিএনএ) ও ‘বামপন্থী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’।

টিএনএর মুখপাত্র এম এ সুমানথিরান জানান, বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট শিগগিরই আবেদনটি শুনানির জন্য আমলে নিতে রাজি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর একটা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতেও আমরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি।’

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধান বিচারপতিসহ তিন বিচারকের আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আবেদনের শুনানি হবে। বিক্রমাসিংহের পক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারাথ আমুনুগামা গতকাল কলম্বোতে পশ্চিমা কূটনীতিকদের বলেছেন, আদালতের পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে আবেদনের ব্যাপারে রায় আসতে পারে।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালত আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিলে পার্লামেন্ট ফের চালু করতে হবে। আর রায় বিপক্ষে গেলে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৬ অক্টোবর বরখাস্ত হলেও বিক্রমাসিংহে এখনো প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। অন্যদিকে রাজাপক্ষেও নিজের মতো করে একটা মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

গত রবিবার পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়াসুরিয়া সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যাতে সিরিসেনার ‘অসাংবিধানিক আদেশ’ পালন না করেন।

এদিকে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সিরিসেনা নিজের সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেছেন, ‘১৪ নভেম্বর পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অধিবেশন বসলে এমপিদের মধ্যকার বিরোধের কারণে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই সহিংসতা এড়াতেই আমি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছি।’ সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য