kalerkantho


প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শতবার্ষিকীতে ম্যাখোঁ

‘জাতীয়তাবাদ মানে বিশ্বাসঘাতকতা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘জাতীয়তাবাদ মানে বিশ্বাসঘাতকতা’

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শতবার্ষিকীর আয়োজনে গতকাল ফ্রান্সের প্যারিসে (ডান দিক থেকে) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাখোঁ ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি : এএফপি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবার্ষিকীতে বিশ্বনেতাদের প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাখোঁর আহ্বান, ‘আতঙ্ক নয়, আশা জাগান।’ ওই যুদ্ধে নিহত অজ্ঞাতপরিচয় সেনাদের যে সমাধি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে রয়েছে, সেখানেই বিশ্বনেতাদের নিয়ে শতবার্ষিকী পালনের আয়োজন করেন এই ফরাসি নেতা। অনুষ্ঠানে ২০ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আশাজাগানিয়া কার্যক্রমের আহ্বান জানান এবং কট্টর জাতীয়তাবাদের সংকটের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেন।

প্যারিসের আর্ক ডি ট্রায়োম্ফে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের সমাধিস্থলে গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানসহ প্রায় ৭০ জন বিশ্বনেতা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ বলেন, ‘পরস্পরের বিরুদ্ধে ভীতি সৃষ্টির পরিবর্তে আসুন আমাদের আশা জাগিয়ে তুলি।’ একসঙ্গে পথ চলার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা, পরিবেশের ধ্বংস, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ, অসাম্য, অবহেলার মতো সব হুমকি প্রতিহত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেখানে কট্টর জাতীয়তাবাদকে আশ্রয় করে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেছেন, সেখানে জাতীয়বাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে ম্যাখোঁ বলেন, ‘জাতীয়তাবাদ হলো একটা বিশ্বাসঘাতকতা। আমাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নামে এবং অন্য সব বিষয়কে উপেক্ষা করে আমরা সেসব বিষয়কে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছি, যেগুলো একটা জাতিকে মূল্যবান করে তোলে, জীবন্ত করে তোলে, মহান করে তোলে এবং সর্বোপরি সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে।’

প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ তাঁর দেশে আন্তর্জাতিক পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিজ নিজ আয়োজনও ছিল। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, হংকং, মিয়ানমার আয়োজক দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নেতারা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছেন, ‘এ যুদ্ধে (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ) ভারতের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল না। তবে শান্তির জন্য আমাদের সেনারা বিশ্বজুড়ে লড়াই করেছিল।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট ম্যারিসন ক্যানবেরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার কাছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাদের আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তারা নিজেদের বর্তমানটা উৎসর্গ করেছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতাদের এক মঞ্চে এনে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ শুধু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শতবার্ষিকী পালনের আয়োজন করে ক্ষান্ত থাকেননি। তাঁদের নিয়ে তিনি প্যারিস পিস ফোরাম শীর্ষক সভা করেছেন। সংঘাত আর সহিংসতা বন্ধ করা এবং অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এ সভার আয়োজন করেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবার্ষিকীর আয়োজনে শুধু বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, ফ্রান্স ও তৎকালীন মিত্র দেশগুলোর তিন হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রবীণ সেনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। আর অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক আবহ ও বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজনও রাখা হয়।

ছয়টি সাম্রাজ্য ও ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে আজকের দিনের প্রায় ৭০টি দেশ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধে এক কোটির বেশি সেনা নিহত হয়েছিল এবং আহত হয়েছিল এর প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক সেনা। নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যার সঠিক হিসাব নেই। তবে ধারণা করা হয়, সংখ্যাটা ৫০ লাখ থেকে এক কোটির মধ্যে হতে পারে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য