kalerkantho


পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন ঘোষণা সিরিসেনার

শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট আরো প্রকট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট আরো প্রকট

আরো গভীর হলো শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট। গতকাল শনিবার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা। এ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ জানুয়ারি দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সিরিসেনা ও তাঁর মিত্র মাহিন্দা রাজাপক্ষে আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে, তার মেয়াদ আরো দুই মাস বেড়ে গেল।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর বিলুপ্ত ঘোষণার আগ মুহূর্তে পুলিশ বিভাগকে তিনি নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করেন। নিয়ন্ত্রণে নেন ডিক্রি জারি করা এবং বিভিন্ন ঘোষণা প্রচারের ইনস্টিটিউটও। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করার পর থেকে সরকারি সব গণমাধ্যমও প্রেসিডেন্টের অনুকূলে রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার চলমান এই সংকটের সূত্রপাত ২৬ অক্টোবর। ওই দিন বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী বানান সিরিসেনা। এ ছাড়া পার্লামেন্ট মুলতবি ঘোষণা করেন তিনি। বিক্রমাসিংহে শুরু থেকেই বলে আসছেন, তাঁকে বরখাস্ত করার সাংবিধানিক অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই। এ ছাড়া নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকার দাবিও জানিয়ে আসছিলেন তিনি। একই দাবি করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিরিসেনা প্রথমে ৭ নভেম্বর অধিবেশন ডাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে জানান ১৪ নভেম্বরের কথা। এ অবস্থায় গতকাল পার্লামেন্ট বিলুপ্তই করে দিলেন তিনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বিরোধী এমপিদের দলে টেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে সিরিসেনা ও রাজাপক্ষের শিবির পার্লামেন্টের অধিবেশন নিয়ে কালক্ষেপণ করছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত এমপিকে দলে টানতে না পেরে তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর আগে নির্বাচনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল।

বিক্রমাসিংহের ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) দাবি করেছে, পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার একক কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের নেই। তাই এর বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। ইউএনপি থেকে নির্বাচিত এমপি অজিত পেরেরা বলেন, ‘দেশে রক্তবন্যা তৈরি হওয়ার আগে সংকট সমাধানের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

‘দুই সপ্তাহের প্রধানমন্ত্রী’ রাজাপক্ষে, যিনি এখন পর্যন্ত পার্লামেন্টে পা ফেলেননি, তিনিই এখন দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজাপক্ষের নেতৃত্বাধীন ‘শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির’ সুসিল প্রেমাজয়ানাথা বলেন, ‘ক্ষমতার লড়াইয়ের ইতি টানতে এবং জনগণকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিতেই প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ চালাবে এবং সুষ্ঠু একটা নির্বাচন উপহার দেবে।’

এদিকে রাজাপক্ষে গতকাল সকালে বলেন, ‘একটি সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছার যথার্থ প্রতিফলন ঘটবে এবং দেশ স্থিতিশীল হবে।’

এদিকে পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র বলে, ‘শ্রীলঙ্কার বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সমৃদ্ধির জন্য অবশ্যই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।’

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস পায়নে বলেন, ‘সিরিসেনার এ সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং দেশের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেবে।’

সূত্র : বিবিসি, এএফফি।



মন্তব্য