kalerkantho


সৌদি যুবরাজ সংস্কারক নাকি স্বৈরাচারী?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সৌদি যুবরাজ সংস্কারক নাকি স্বৈরাচারী?

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দৃশ্যত যেসব আধুনিকায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তিনি তাঁর অতি রক্ষণশীল দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও ধর্মীয় রীতিনীতিকে অনেকখানি নাড়া খাইয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর অনেক কার্যক্রমের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগও প্রবল হয়ে উঠেছে। তাঁর কট্টর সমালোচক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে এ অভিযোগ যেন আরো উসকে উঠেছে।

মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৭ সালের জুনে যুবরাজ পদে অভিষিক্ত হন। দেশকে অতি রক্ষণশীলতা থেকে মধ্যপন্থায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার করে ভিশন ২০৩০ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি উঠেপড়ে লাগেন। এর আওতায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার প্রদান, সিনেমা হল চালু করা, ধর্মীয় পুলিশের অধিকার খর্ব করা, অর্থনৈতিক সংস্কার, দুর্নীতি রোধে দেশের অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিকে বন্দি করার ইস্যু।

এসব সংস্কার কার্যক্রমের কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি মোহাম্মদ বিন সালমান দ্রুত পশ্চিমাদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গেও তিনি দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সক্ষম হন। এরই মধ্যে তিনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরের দেশ সফর করেছেন।

সৌদি আরবের পরবর্তী শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং গতকাল শনিবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে আরেক নতুন দায়িত্ব। এদিন গোয়েন্দা সংস্থা পুনর্গঠন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, তিনি রাজধানী রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। আগামী মঙ্গলবার-বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা।

কিন্তু সৌদি যুবরাজের সব অর্জন যেন মাটি হয়ে যাচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগের কারণে। ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, লেখক, ধর্মীয় নেতাসহ আরো অনেকে হরদম ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে শিয়াপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং এর জেরে ইয়েমেন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তাঁকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবল সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া গত নভেম্বরে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে রিয়াদে গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আছে। এসব কিছুর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে খাশোগি হত্যাকাণ্ড।

গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ খাশোগিকে আসলে কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে, গত শুক্রবার সেটা স্বীকার করে নেয় সৌদি সরকার। সর্বশেষ ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে কাজ করা এ সাংবাদিক মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচনা করতেন। খাশোগি তাঁকে নানা নেতিবাচক বিশেষণ বিশেষায়িত করেছেন।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে খাশোগি নিউজউইকের সঙ্গে আলাপকালে অফ দ্য রেকর্ডে (যে কথোপকথন প্রকাশের জন্য নয়) সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিত্বের গভীরে তিনি মান্ধাতার আমলের এক উপজাতি নেতা। অগ্রসর বিশ্বের আধুনিকতা, সিলিকন ভ্যালি, সিনেমাসহ সব কিছুর ফল তিনি উপভোগ করতে চান, কিন্তু সৌদি আরবকে শাসন করার বেলায় তিনি দাদার মতো হতে চান।’

যুবরাজের সার্বিক আচরণ বিচারে তাঁকে সংস্কারক নাকি স্বৈরাচারী অভিহিত করা হবে, তা নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে বৈকি। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য