kalerkantho


অবশেষে ট্রাম্প বললেন

‘খাশোগি সম্ভবত মারা গেছেন’

মৃতদেহের খোঁজে জঙ্গলে তল্লাশি তুর্কি তদন্তকারীদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘খাশোগি সম্ভবত মারা গেছেন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেছেন, নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি সম্ভবত মারা গেছেন। এর জন্য সৌদি আরবই দায়ী, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটার ভয়াবহ ফলাফলের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন অনিশ্চিত মন্তব্যের মধ্যে খাশোগি ইস্যুতে তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের ইউরোপ অংশের জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়েছে তুরস্কের তদন্তকারীরা।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক খাশোগি গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ। তিনি জীবিত না মৃত, এ ব্যাপারে সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, কোনো পক্ষই স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। তবে তুরস্কের সরকারপন্থী দৈনিকগুলোর প্রতিবেদন যেসব তথ্য প্রকাশ করছে, তাতে এ ঘটনার দায় আদতে সৌদি আরবের ওপর বর্তায়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, খাশোগি বেঁচে নেই, তা তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সে রকমই মনে হচ্ছে। ব্যাপারটা খুব দুঃখজনক।’ খাশোগিকে হত্যার পেছনে সৌদি আরবের দায় প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে, এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত মারাত্মক।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, খাশোগি ইস্যুতে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য সৌদি আরবকে ‘আরো কয়েক দিন সময়’ দেওয়া দরকার। সৌদি আরবের তদন্ত শেষ হলে সেটার ভিত্তিতে ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব, যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে অথবা আদৌ প্রতিক্রিয়া দেখাবে কি না।’

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সৌদি আরবের হাত থাকার অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে সৌদি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ কী হতে পারে, এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি শাসকগোষ্ঠী সম্ভবত যুবরাজ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেনারেল আহমেদ আসিরির ওপর খাশোগি হত্যার দায় চাপিয়ে দেবে।

খাশোগি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনেতিক তত্পরতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের তদন্তকারীরা ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বেলগ্রেড জঙ্গলে তল্লাশি চালায়। তুর্কি দৈনিক কুমহুরিয়েত এবং সম্প্রচার মাধ্যম এনটিভি গতকাল শুক্রবার এ খবর জানায়। গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেট থেকে বের হওয়া যেসব গাড়ি তদন্তকারীদের সন্দেহের আওতায় রয়েছে, সেসব গাড়ির মধ্যে একটিকে সেদিন ওই জঙ্গলের দিকে যেতে দেখা গেছে। এ কারণেই ওই জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়।

নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে : তুরস্কের তদন্তকারীদের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি সূত্র ও পুলিশের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ঘটনার দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছুক্ষণ আগে কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষমাণ হাতিস সেনগিজ তাঁর বাগদত্তা খাশোগির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের উপদেষ্টাকে ফোন করেন। উপদেষ্টা ইয়াসিন আক্তার তত্ক্ষণাত্ তুরস্কের গোয়েন্দাদের ফোন করেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তিনি আংকারায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকেও ফোন করে। এরপর সন্দেহভাজন বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও খাশোগির খোঁজ মেলেনি।

পম্পেও কোনো রেকর্ড দেখেননি, তুরস্কও দেখায়নি : তুরস্কের সরকাপন্থী দৈনিকগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে আসছে, সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ হিসেবে অডিও-ভিডিও রেকর্ড তুর্কি সরকারের কাছে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক পম্পেও সেগুলো দেখেছেন, এমন খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বর্তমানে লাতিন আমেরিকা সফররত পম্পেও দাবি করেছেন, তিনি কোনো অডিও রেকর্ড শোনেননি, ভিডিও দেখেননি কিংবা অন্য কোনো নথিপত্রও দেখেননি। এ ছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তুরস্কের পক্ষ থেকে পম্পেও কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের অডিও টেপ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ তদন্তের ফলাফল সারা বিশ্বকে জানানোর অঙ্গীকারও করেন তুরস্কের এ শীর্ষ কূটনীতিক। উল্লেখ্য, খাশোগি ইস্যুতে আলোচনার জন্য পম্পেও গত মঙ্গলবার সৌদি আরব ও পরদিন বুধবার তুরস্ক সফর করেন।

তুরস্কের প্রতি চার সংগঠনের বিশেষ আহ্বান : তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যেন সবার চোখ ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের চারটি সংগঠন তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তুরস্ক যেন জাতিসংঘকে অনুসন্ধান পরিচালনার অনুরোধ করে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস মনে করে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আদেশে তদন্ত পরিচালিত হলে খাশোগি ইস্যুটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।



মন্তব্য