kalerkantho


প্রশান্ত মহাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্য সরাচ্ছে ‘উইলসন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রশান্ত মহাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্য সরাচ্ছে ‘উইলসন’

প্রশান্ত মহাসাগরে জমে থাকা প্লাস্টিকের বর্জ্য সরিয়ে নিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে ‘উইলসন’ নামের একটি পাইপ। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওশান ক্লিনআপ ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান দুই হাজার ফুট লম্বা ‘ইউ’ আকৃতির উইলসনকে প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসিয়ে দেয়।

এর আগে গত মাসে তারা প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের এ ধরনের পাইপ দিয়ে সান ফ্রান্সিসকো ও হাওয়াইয়ের মধ্যকার এলাকায় জমে থাকা ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাঁচ’ পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, আয়তনের দিক থেকে টেক্সাসের দ্বিগুণ এবং পাঁচটি মহাসাগরে জমে থাকা বর্জ্যস্তূপের মধ্যে ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাঁচ’ ভাগাড়টি সবচেয়ে বড়। উইলসনের নিচে তিন মিটার গভীর জাল বসানো হয়েছে, যাতে পানিতে ডুবে থাকা প্লাস্টিকগুলো সহজে তুলে আনা যায়। এর সঙ্গে স্যাটেলাইট এবং দুটি ক্যামেরাও বসানো রয়েছে। যাতে নেদারল্যান্ডসে প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর এবং অন্য জাহাজকে নিজের অবস্থান বোঝানোর জন্য সংকেত পাঠানো সম্ভব হয়। কয়েক মাস পর পর বর্জ্য সংগ্রহ করতে উইলসনের কাছে একটি জাহাজ যাবে। বর্জ্য নিয়ে উপকূলে ফিরে আসবে। অনেকটা বর্জ্যবাহী ট্রাকের মতো।

ওশান ক্লিনআপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বোয়াইন স্লাট (২৪) বলেন, বর্তমানে সমুদ্রে ১৫ কোটি টন প্লাস্টিকের বর্জ্য রয়েছে, যা আগামী দশকের মধ্যেই তিন গুণ বাড়বে। উইলসনকে ব্যবহার জলবায়ুর পরিবর্তন, সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষায়ও এটি সহায়ক হবে। কারণ প্লাস্টিক খাওয়া মাছের কারণে মানুষও শেষ পর্যন্ত প্লাস্টিকই খাচ্ছে। সেটা বন্ধ হবে। ওশান ক্লিনআপ ফাউন্ডেশন পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছে। তারা আশা করছে, ২০১৯ সালের এপ্রিলের মধ্যে তারা পাইপের সাহায্যে সমুদ্র থেকে ৫০ টন বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব সমুদ্র থেকে ৯০ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য তারা সরিয়ে ফেলতে পারবে। এদিকে সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক সরিয়ে ফেলার এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে এটি দিয়ে ছোট প্লাস্টিক ধরা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণীও এর জালে আটকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সূত্র : সিএনএন।

 



মন্তব্য