kalerkantho


জেরুজালেমে দূতাবাস সরাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



জেরুজালেমে দূতাবাস সরাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াও

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন। অর্থাৎ তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারী হতে যাচ্ছেন। গত বছর মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়।

স্বাভাবিকভাবেই মরিসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল এবং নিন্দা করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

মরিসন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি ‘খোলা মন’ নিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এই পবিত্র নগরীতে তিনি তাঁর দেশের দূতাবাসকে সরিয়ে নিতে চান তিনি। কয়েক দশক ধরে অস্ট্রেলিয়া সরকার যে নীতি অনুসরণ করে চলেছে একেবারে বিপরীত মেরুতে গিয়ে নতুন এ প্রস্তাবের কথা তুললেন মরিসন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিষয়টি খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে না। অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে। আপনি একইভাবে কাজ করবেন এবং ভিন্ন ফল প্রত্যাশা করবেন, তা হতে পারে না।’ মরিসন জেরুজালেমকে স্বীকৃতি এবং অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়াকে ‘স্পর্শকাতর’ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে বিষয়টি এমন হতে পারে অস্ট্রেলিয়া পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের রাজধানী এবং পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।

এর আগে সোমবারই অবশ্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এক টুইটে অস্ট্রেলিয়ার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। যদিও ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

তবে শুধু যে দেশের বাইরে মরিসনের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে, তা নয়। দেশের ভেতরেও এর প্রভাব অপরিসীম। আগামী শনিবার অস্ট্রেলিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোট হতে যাচ্ছে। সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থ নামে এ এলাকায় ইহুদি ভোটার কম নয়। এ আসন থেকে সরকারি দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেভ শর্মা। পার্লামেন্টে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাত্র এক আসনে। বিরোধী দলের অভিযোগ, এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেই মরিসন নতুন এ ঘোষণা দিলেন। যার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি সংগতিপূর্ণ নয়।

যদিও মরিসন বিরোধীদের এ অভিযোগ এবং ট্রাম্পকে অনুসরণ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

 



মন্তব্য