kalerkantho


ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বললেন

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন রুখতে আইন আনুক পার্লামেন্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শুধু সাজাপ্রাপ্ত নয়, ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট পেশ হলেও কি নেতারা আর ভোটে লড়তে পারবেন না?  এই প্রশ্নে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করে বরং পার্লামেন্টকেই পরামর্শ দিয়েছেন এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন রুখতে দ্রুত নতুন আইন পাস করতে হবে সংসদকেই। রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গণতন্ত্র। সংসদের দায়িত্ব কড়া হাতে এই সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা। আদালত নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকেও কিছু নির্দেশিকা দিয়েছেন।

একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানান, এ বিষয়ে তাঁরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। তবে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীরা যে হলফনামা জমা দেন, তাতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় চার্জশিট গঠন হলে তা বিস্তারিত ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এসব প্রার্থীর বিষয়ে দলের ওয়েবসাইটে জানাতে হবে। ভোটের প্রচার এবং সংবাদমাধ্যমেও চার্জশিটের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে এসব প্রার্থীর।

এ বছরের গোড়াতেই কেন্দ্র শীর্ষ আদালতকে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, দেশের ৩৬ শতাংশ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় বিচার চলছে। দেশে মোট সাংসদ ও বিধায়কের সংখ্যা চার হাজার ৮৯৬। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় এক হাজার ৭৬৫ জনের বিচার চলছে। মামলার সংখ্যা তিন হাজার ৪৫।

‘পাবলিক ইন্টারেস্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে মূল জনস্বার্থ মামলাটি করেন আইনজীবী দীনেশ দ্বিবেদী। তাঁর বক্তব্য ছিল, দাগি নেতারা যাতে ভোটে লড়তে না পারেন, সে রকম কোনো আইন কোনো দিনই পাস করবে না সংসদ। তাই কোনো ফৌজদারি মামলায় কারো বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হলেই তাঁর ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার কেড়ে নেওয়া হোক। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন রুখতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি শুরু হয়। সূত্র : আনন্দবাজার।

 



মন্তব্য