kalerkantho


মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ

অনিয়মের অভিযোগ, বিরোধী দলের অফিসে পুলিশি অভিযান
চীন-ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ

অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিন ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিরোধী দলের প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের দীর্ঘ সময় ধরে চালানো অভিযান নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এমডিপি) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রেসিডেন্টে পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনেছে।

মালদ্বীপের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেশটিকে নিয়ে কৌশলগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকা দুই আঞ্চলিক শক্তি ভারত ও চীন। নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নতি না ঘটলে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়ে রেখেছে তারা। এবারের নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে দ্বীপ দেশটির ‘নবীন গণতন্ত্রের গণভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সাগরের স্বচ্ছ পানি ও আকর্ষণীয় অবকাশ কেন্দ্রের কারণে ভারত মহাসাগরীয় দীপপুঞ্জ মালদ্বীপের বিশ্বজুড়ে খ্যাতি থাকলেও বর্তমান সরকারের বিরোধী দল দমনের কারণে ব্যাপক দুর্নাম কুড়িয়েছে। ২০০৮ সালে দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরুর পর এবার তৃতীয়বারের মতো বহুদলীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে দুই প্রার্থী হলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ও বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ। তাদের মধ্যে ইয়ামিন চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর বিরোধী সোলিহ ভারত ও পশ্চিমাঘেঁষা।

গতকাল সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে চার লাখ মালদ্বীপবাসীর মধ্যে ভোটার ছিল দুই লাখ ৬০ হাজার। দেশজুড়ে ৪০০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সিএনএন জানায়, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক উপস্থিতি এবং ভোট পড়ার হার বেশি থাকায় ভোটগ্রহণের শেষ সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আহমেদ আকরাম জানান, দুপুরের মধ্যেই ৪২ শতাংশ ভোট পড়ে এবং দিন শেষে তা প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে। এ জন্যই সময় বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে মালেতে বিরোধী দল এমডিপি কার্যালয়ে কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ওই সময় এমডিপির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ অফিসে ছিলেন না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ভোট কারচুপির তীব্র আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়।

গতকাল সকালে মালেতে ভোট দেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সোলিহ। ইয়ামিন স্বাধীন মত দমনের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। তাঁর বর্তমান মেয়াদে তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করা, বিরোধী দলের নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জেলে পোরার জন্য সমালোচিত।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানান, দলত্যাগ করার জন্য মালদ্বীপের বর্তমান সংসদের ৯ জন এমপির পার্লামেন্ট সদস্যপদ বাতিল হবে না। এই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর মুখে পড়লে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করেন। পরে অবশিষ্ট বিচারপতিদের দিয়ে আগের রায় সংশোধন করান। সূত্র : বিবিসি, মালদ্বীপ ইনডিপেনডেন্ট।



মন্তব্য