kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্স

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে কয়েক দশকের মধ্যকার সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্স। সর্বোচ্চ পাঁচ ক্যাটাগরির স্কেলে ফ্লোরেন্সের ক্যাটাগরি হলো চার। ঘণ্টায় ১৪০ মাইল বেগে ধেয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

ফ্লোরেন্স গতকাল মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে যেতে শুরু করেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নাগাদ এটি নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত করবে।

আসন্ন ঘূর্ণিঝড়টির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক হতে বলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘পূর্ব উপকূলে আঘাত করতে উদ্ধত এ ঝড় বহু বছরের মধ্যে ভয়াবহতম। দয়া করে প্রস্তুত হোন, সতর্ক হোন এবং নিরাপদে থাকুন।’

সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার উপকূলের ১০ লাখের বেশি অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকার ২৬টি স্কুল গতকাল থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকার অধিবাসীদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়তি পদক্ষেপ হিসেবে এ তিনটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণায় ট্রাম্প নিজে অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র (এনএইচসি) গতকাল ফ্লোরেন্সের অবস্থান সম্পর্কে জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্স বারমুডা থেকে ৪১০ মাইল দক্ষিণে ছিল। পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টায় ঝড় আরো শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়ার পূর্বাভাস দানকারীরা। ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্র আজ বুধবার বারমুডা ও বাহামার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে এবং আগামীকাল এ ঝড় নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনার উপকূলে আঘাত করবে। ঝড়ের প্রভাবে বন্যার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গতকাল ঝড়ের ব্যাপারে সতর্কবার্তা জারি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় গত শুক্রবার থেকে। তারা দুর্যোগকালীন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ওই দিন থেকে দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য