kalerkantho


ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইল মিত্ররা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইরাকের পার্লামেন্টে দুটি নেতৃত্বস্থানীয় দল প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির পদত্যাগ দাবি করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর বসরায় সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন প্রণেতারা জরুরি সভা শেষে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একজন নামি ধর্মগুরুসহ সরকারের মিত্র দলও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।

শিয়া ধর্মগুরু মোকতাদা আল সদরের মুখপাত্র হাসান আল-আকুইলি বলেন, ‘জনগণের কাছে সরকারের ক্ষমা চাওয়ার এবং দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’ পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল কনকোয়েস্ট অ্যালায়েন্স প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা করেছে। দলটির মুখপাত্র আহমেদ আল আসাদি বলেন, ‘সরকার বসরায় সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে।’

আবাদির দল আগের মতোই বসরার ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক নাশকতা’ বলে বর্ণনা করেছে। বসরার জন্য আবাদির সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করার কথা জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, জুলাই মাসে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ করা অর্থ প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তেলখনিসমৃদ্ধ বসরার নাগরিকরা কয়েক দিন ধরে পানি ও বিদ্যুতের ঘাটতির অভিযোগ করে আসছিল। এ নিয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু দূষিত পানি পান করার ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অবস্থার অবনতি হয়। গত মঙ্গলবার তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিভিন্ন সরকারি ভবন, ইরানের দূতাবাস এবং ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক অফিসে আগুন দেয়। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বসরার নাগরিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত হয়। বসরার বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত। শনিবার রাত থেকে রাস্তা শান্ত হয়ে এসেছে। শুক্রবার সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। এ সময় প্রথমবারের মতো সেনা ও পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় টহল দেন এবং পথচারীদের তল্লাশি করেন। শনিবার সান্ধ্য আইন না থাকা সত্ত্বেও কোনো রকম অঘটনও ঘটেনি।

পার্লামেন্টে অধিবেশন বসার কয়েক ঘণ্টা আগে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা বসরা বিমানবন্দর এলাকায় চারটি রকেটও নিক্ষেপ করে। এতে অবশ্য তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। বসরা বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিমান ওঠানামায় কোনো সমস্যা হয়নি। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য