kalerkantho


মাদুরোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা

গোপন বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গোপন বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তারা

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে ভেনিজুয়েলার বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা গোপনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। মোট তিন দফা বৈঠক হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র শেষমেশ অভ্যুত্থানে সহায়তা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এসব বৈঠকে সম্পৃক্ত ছিল—উভয় দেশের এমন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল রবিবার এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

গত শনিবার এ বিষয়ে প্রথম খবর ছাপায় নিউ ইয়র্ক টাইমস। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা সিএনএনকে নিশ্চিত করেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরটি সঠিক। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না।

গোপন বৈঠকের ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ভেনিজুয়েলার সাবেক এক সামরিক কমান্ডারসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১১ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার উদ্ধৃতি রয়েছে। ভেনিজুয়েলার সাবেক ওই কমান্ডার বলেন, ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীতে তিনটি বিদ্রোহী গ্রুপ রয়েছে, যারা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে চায়। এদের মধ্যকার একটি গ্রুপই মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যোগাযোগটি হয়েছিল ইউরোপের একটি দেশের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুশ্চিন্তা ছিল, এ ধরনের বৈঠক গোপনে ধারণ হতে পারে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রকে ষড়যন্ত্রকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রচার করা হতে পারে। এ ছাড়া এমন বৈঠক ফাঁস হলে ভেনিজুয়েলার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও করছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় বৈঠকের জন্য একদল পেশাদার কূটনীতিক পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন। এদের প্রতি নির্দেশনা ছিল, বৈঠকে কোনো কথা বলা যাবে না; শুধু ভেনিজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে হবে। কোনো সমঝোতাও করা যাবে না। প্রথম এ বৈঠকটি হয় তৃতীয় একটি দেশে; ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এ বৈঠকের পর মার্কিন কর্মকর্তাদের উপলব্ধি ছিল, ভেনিজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তারা অভ্যুত্থান ঘটাতে চাইলেও তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং তাঁরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটা দিকনিদের্শনা প্রত্যাশা করেছিলেন।

ভেনিজুয়েলার ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, ‘দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কোনো হস্তক্ষেপ আমরা চাইনি। এমনকি যৌথ অভিযানের পক্ষেও আমরা ছিলাম না।’

দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় গত বছরের শেষ দিকে। সেখানে ভেনিজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন একটা প্রযুক্তি চান, যেটি দিয়ে তাঁরা গোপনে যোগাযোগ করতে পারবেন। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এরপর তৃতীয় বৈঠকটি হয় চলতি বছরের শুরুতে। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, তাঁরা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় কোনো সহায়তা করতে পারবেন না।

ভেনিজুয়েলার ওই সামরিক কমান্ডার আরো জানান, গত এক বছরে সামরিক বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ একাধিকবার অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছে; কিন্তু একটাও সম্ভব হয়নি। কারণ প্রতিবারই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। ধারণা করা হয়, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠকের বিষয়টিও মাদুরো বেশ ভালোভাবেই জানতেন। সূত্র : সিএনএন।



মন্তব্য