kalerkantho


ভেসে থাকতে লড়তে হবে ব্যাংকককে

সমুদ্রস্তর বাড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভেসে থাকতে লড়তে হবে ব্যাংকককে

২০১১ সালের ১০ নভেম্বরের এই ছবিটি ব্যাংককের ডন মুয়াং বিমানবন্দর থেকে তোলা। সে বছর মৌসুমি বন্যায় থাই রাজধানীর এক-পঞ্চমাংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ছবি : এএফপি

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এই সম্মেলন শুরু হবে। যদিও খোদ ব্যাংককই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মাত্র এক দশক সময়ের মধ্যেই আংশিকভাবে ডুবে যেতে পারে এক কোটি বাসিন্দার এই শহর।

এ বছরের শেষ দিকে পোল্যান্ডে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক কাল থেকে ব্যাংককে শুরু হতে যাচ্ছে। পোল্যান্ডের বৈঠক এবং এর আগে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকেও আলোচনা হবে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কী করে বন্ধ করা যায় এবং ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করার বিষয়গুলো নিয়ে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি ও তীব্র খরা বা বন্যার মতো আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এগুলোর আরো অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত জলবায়ুবিষয়ক প্যারিস চুক্তি কার্যকরে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে।

ব্যাংকক একসময় জলাভূমি ছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এটি মাত্র পাঁচ মিটার ওপরে অবস্থিত। বিশ্বের সর্বাধুনিক শহরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণ এবং আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তনের জন্য ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকেই ব্যাংককের অন্তত ৪০ শতাংশ ডুবে যেতে পারে। গ্রিনপিসের তারা বুয়াকামস্রি বলেন, ‘বর্তমানে থাই রাজধানী প্রতিবছর এক থেকে দুই সেন্টিমিটার করে ডুবছে। অদূর ভবিষ্যতেই বড় ধরনের বন্যা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। থাইল্যান্ড উপসাগরের উচ্চতা প্রতিবছরই চার মিলিমিটার করে বাড়ছে। এই হার বৈশ্বিক মাত্রার চেয়ে বেশি।’ বুয়াকামস্রি বলেন, এই শহরের অনেকখানি এলাকাই সমুদ্রস্তরের নিচে অবস্থান করছে।

২০১১ সালের বন্যায় শহরের এক-পঞ্চমাংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেবার পাঁচ শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণই এর প্রধান কারণ। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শহরবাসী জটিল সমস্যার মধ্যে পড়তে পারে। বুয়াকামস্রি বলেন, এই নগরায়ণ ‘প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে।’ থাইল্যান্ডে অতীতে যে খালগুলো ছিল তার জন্য একে প্রচ্যের ভেনিস বলে ডাকা হতো। 

পাশাপাশি চিংড়ি চাষের মতো বিষয়গুলোও রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ম্যানগ্রোভ বন কেটে পরিষ্কার করেও চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। এর কারণে ঝড়ের তীব্রতা বেড়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর নিকটবর্তী উপকূলরেখাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এটি। এসব কারণে দক্ষিণের সমুদ্র থেকে এবং পূর্ব থেকে মৌসুমি বন্যার প্রকোপে পড়তে পারে থাইল্যান্ড। আগামী বছরগুলোতে ঘন ঘন শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

ব্যাংককের পানি ও পয়োনিষ্কাশন দপ্তরের পরিচালক নারং রাওংস্রি বলেন, এই অত্যাধুনিক শহরের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে ‘অতীতে যেগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করত এখন আর সেসবের অস্তিত্ব নেই।’ সংকট দূর করতে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সরকার। বহু খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সংযুক্ত এসব খালের দৈর্ঘ্য হতে পারে দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

তবে বুয়াকামস্রি বলেন, এসব ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন। ব্যাংককে জমির উচ্চমূল্যের কারণে অর্থনৈতিক স্বার্থই অধিক প্রাধান্য পায়। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য