kalerkantho


সানডে টেলিগ্রাফে টেরেসা মের নিবন্ধ

ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউকে কোনো ছাড় নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউকে কোনো ছাড় নয়

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, ব্রেক্সিট (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের সরে যাওয়া) পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আর এতটুকু নমনীয় হবেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চেকার্স সমঝোতা’ নিয়েও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল রবিবার ‘সানডে টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় এক নিবন্ধে এ অবস্থান জানান তিনি।

আগামী বছরের ২৯ মার্চ থেকে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরপর ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ব্রিটিশ সরকার সমালোচনা সত্ত্বেও গত জুলাইয়ে ব্রেক্সিট নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছে। ওই ঐকমত্য ‘চেকার্স সমঝোতা’ হিসেবে পরিচিত। চেকার্স রাজধানীর বাইরে বাকিংহ্যামশায়ারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন; যেখানে সমঝোতাটি হয়েছিল।

টেরেসা মে তাঁর নিবন্ধে বলেন, চেকার্স সমঝোতার বাইরে গিয়ে কিংবা যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ছাড় দেওয়া হবে না। ব্রেক্সিট নিয়ে আরেকটি গণভোটের যে দাবি উঠেছে, তাও নাকচ করে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি মেনে নেওয়া হলে তা হবে বিশ্বাসঘাতকতা।

‘চেকার্স সমঝোতা’ নিয়ে অনেক ধরনের সমালোচনা রয়েছে। এই সমঝোতায় এমন একটি নীতিমালা রয়েছে, যার অধীনে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাণিজ্যের অনুমোদন রয়েছে। মূলত দুই পক্ষের সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই এই নীতিমালা রাখা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম-নীতি মানতে বাধ্য হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তিতেও বিষয়টি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে।

‘সানডে টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় টেরেসা মে লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষেত্রে আগামী কয়েকটি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রিটিশদের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমি একেবারে পরিষ্কার।’

‘চেকার্স সমঝোতা’র বিরোধিতা করে ওই সময় মন্ত্রিসভার দুই সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু টেরেসা মনে করেন, ‘ব্রেক্সিটবিষয়ক সমঝোতার ক্ষেত্রে চেকার্সের সিদ্ধান্ত ছিল সত্যিকারের অগ্রগতি।’ তবে এখনো অনেক কাজ বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই ভালো একটা চুক্তি করতে চাই এবং এ ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস রয়েছে।’

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটের রায় ধরেই আসে ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত। এখন অনেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরেকটি গণভোটের দাবি তুলেছেন। এ বিষয়ে টেরেসা মে লিখেছেন, ‘২০১৬ সালে কোটি কোটি মানুষ নিজেদের উত্তর জানিয়ে দিয়েছে। এখন তাদের একই প্রশ্ন আবার করা হলে তা হবে গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’ সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য