kalerkantho


জাতিসংঘের প্রতিবেদন

চীনে বিনা বিচারে আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সন্ত্রাস দমনের নামে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বিনা বিচারে আটক নৃতাত্ত্বিক উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজনকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে তাঁরা কথিত রাজনৈতিক ‘পুনর্শিক্ষা শিবির’ নামধারী কারাগারগুলো বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের বর্ণবাদী বৈষম্য নির্মূলকরণ কমিটির গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর সরকারের ধরপাকড়ের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রত্যন্ত জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা বা বিচার কার্যক্রম ছাড়াই তাদের আটক রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, চীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে উইঘুরদের স্বায়ত্তশাসিতক অঞ্চলের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে সেটিকে ‘গণবন্দিশিবির’ বলে মনে হয়। ওই অঞ্চলকে ‘অধিকারবিহীন অঞ্চল’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান গে ম্যাকডোগাল।

জিনজিয়াংয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে সেখানকার অভিজ্ঞতা। তাদের অভিযোগ, বন্দিশিবিরে সব সময় সশস্ত্র পুলিশ প্রহরা থাকে। সেখানে মুসলিমদের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অস্বীকার করতে বাধ্য করা হয়, বাধ্য করা হয় নিজেদের এবং প্রিয়জনদের সমালোচনা করতে। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য স্বীকারেও বাধ্য করা হয় উইঘুর বন্দিদের।

চীন অবশ্য এ ধরনের বন্দিশিবিরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, জিনজিয়াং পরিস্থিতি নিয়ে এসব সমালোচনার পেছনে রয়েছে চীনবিরোধী শক্তি। তবে আগস্টের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় জাতিসংঘের বর্ণবাদী বৈষম্য নির্মূলকরণ কমিটির কাছে চীনের প্রতিনিধি হু লিয়ানহে স্বীকার করছেন, যারা লঘু অপরাধ করে, তাদের ‘কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে’ পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুনর্শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে ১০ লাখ উইঘুরকে আটক রাখার তথ্য ‘একদম মিথ্যা’। উল্টো চীন সরকারের দাবি, ইসলামী জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর ও সংখ্যাগুরু চীনা হান সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে চীনে বসবাসকারী উইঘুরদের পাশাপাশি যারা বিদেশে চলে গিয়েছিল, তাদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বিদেশে চলে যাওয়া অনেক উইঘুরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চীনে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে। ফিরতে বাধ্য হওয়া শিক্ষার্থী ও বিদেশে আশ্রয়প্রার্থীদের বর্তমান অবস্থান ও অবস্থা জানাতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে অধিকারবঞ্চিত তিব্বতিদের প্রসঙ্গও আনা হয়। বিদেশ ভ্রমণের জন্য তিব্বতিদের পাসপোর্ট সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষা, বিচার ও গণমাধ্যমে তাদের ভাষার ব্যবহার চালু করার আহ্বান জানানো হয়।

শুধু জাতিসংঘ নয়, উইঘুর প্রসঙ্গ নিয়ে নাড়াচাড়া চলছে যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটির আইন প্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, জিনজিয়াং প্রদেশে গণহারে বন্দি রাখার কর্মসূচি ও মানবাধিকার সংকট সৃষ্টির পেছনে দায়ী চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সিনেটর মার্কো রুবিও ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সদস্য ক্রিস স্মিথসহ ১৫ কংগ্রেস সদস্য এ চিঠিতে সই করেছেন। সূত্র : গার্ডিয়ান, বিবিসি।



মন্তব্য