kalerkantho


আফগানিস্তানে তিন বাসের যাত্রী জিম্মি, উদ্ধার ১৪৯

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



আফগানিস্তানে তিন বাসের যাত্রী জিম্মি, উদ্ধার ১৪৯

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে গতকাল সোমবার সকালে তালেবানের হাতে দেড় শতাধিক বাসযাত্রী জিম্মি হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকালের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১৪৯ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অন্তত সাতজন তালেবান জঙ্গি মারা যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আরো ২১ জন জিম্মিকে উদ্ধারের জন্য তালেবানের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল।

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির শর্তসাপেক্ষে তিন মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বাসযাত্রীদের জিম্মি করার ঘটনাটি ঘটে। গত রবিবার প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, গতকালের বাসযাত্রী জিম্মি করার মূল উদ্দেশ্য সম্ভবত তালেবান সরকারি কর্মকর্তাদের খুঁজছিল।

কুন্দুজ প্রদেশের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকালে দক্ষিণ আফগানিস্তান অঞ্চলের ওই সড়কে ওত পেতে থাকে তালেবান সদস্যরা। তারা একটি গাড়িবহর থামিয়ে নারী ও শিশুসহ দেড় শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে। এটা ছিল এই প্রদেশে জঙ্গিদের সবচেয়ে নিষ্ঠুর হামলা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে জিম্মি যাত্রীদের ভাগ্য সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

কুন্দুজের প্রাদেশিক পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ আইয়ুবি বলেন, জঙ্গিরা খান আবেদ জেলার সড়কে তিনটি বাস থামায় এবং যাত্রীদের তাদের সঙ্গে যেতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, তিনি ধারণা করছেন তালেবান সরকারি চাকরিজীবীদের অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদর খুঁজছে। কারণ তাঁরাই সাধারণত ছুটির সময় বাড়িতে ফিরে থাকেন।

প্রতিবেশী তাকহার প্রদেশের পুলিশ প্রধান আব্দুল রাহমান বলেন, বাদাখশান ও তাকহার প্রদেশ থেকে যাত্রী নিয়ে তিনটি বাস রাজধানী কাবুলের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু সকালে কুন্দুজ প্রদেশের খান আবাদ জেলায় তালেবানর বাসগুলো আটকে যাত্রীদের ধরে নিয়ে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে তালেবানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানানো হয়নি। পরে জঙ্গিগোষ্ঠীটির মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, তাদের একটি দল যাত্রীসহ তিনটি বাস আটক করেছে। পরে বেসামরিক যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বন্দি করা রাখা হবে। এর পরই সরকারি বাহিনী জিম্মি যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। কুন্দুজ প্রদেশের মুখপাত্র ইসমতুল্লাহ মুরাদি বলন, নিরাপত্তা বাহিনী একটি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে এবং ১৪৯ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, আরো ২১ জন তালবানের হাতে রয়েছে।

প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা : গত রবিবার রাতে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ঈদুল আজহা সামনে রেখে ‘শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে দুই দিক থেকে। এটি অব্যাহত থাকা কিংবা এর ব্যাপ্তি নির্ভর করবে তালেবানের অবস্থানের ওপর।

প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও জাতিসংঘ মহাসচিবের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রতিনিধি। প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক দিন পরই বাসযাত্রী জিম্মির ঘটনাটি ঘটল। তবে সরকারের তরফে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গতকাল পর্যন্ত তালেবানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে আলজাজিরা অনুরোধ করলেও তালেবান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, তারা ঈদের সময় কয়েক শ বন্দিকে মুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানভিত্তিক এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তাঁরা যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে সাড়া দিয়ে বিবৃতি দেওয়ার চিন্তা করছেন। তবে তাঁরা শুধু ঈদের তিন দিন এটা কার্যকর রাখতে চান।

প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগের দিন গত শনিবার আফগান তালেবান নেতা মৌলভি হায়বাতুল্লাহ আকুনজাদাহ বলেছিলেন, দেশে শান্তির কোনো সম্ভাবনা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত বিদেশি দখলদারি অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুনে রমজানের ঈদে সরকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে তালেবান ঈদের তিন দিনের জন্য তা গ্রহণ করেছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তালেবান রাজি হয়নি। সূত্র : এপি, এএফপি ও আলজাজিরা।



মন্তব্য