kalerkantho


মাথাচাড়া দিচ্ছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো

সেনা সমর্থনে বেড়ে ওঠা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মাথাচাড়া দিচ্ছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো

পাকিস্তানে কাল বাদে পরশু বুধবার যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাতে মূল লড়াই হবে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে। এর মাঝখানে অবশ্য আরেকটি পক্ষ আছে—কট্টর ইসলামপন্থী দলগুলো। তাদের বেড়ে ওঠার পেছনে খোদ সেনাবাহিনীর ভূমিকা আছে, এমন অভিযোগ করছেন বিশ্লেষকরা।

কট্টর ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত দল যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নতুন দল। সচরাচর কয়েক শ প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার তারা দেড় হাজারের বেশি প্রার্থী দিয়েছে। পশ্চিমবিরোধিতা ও সেই সঙ্গে শরিয়াহ আইনের কঠোরতম ব্যাখ্যা—এ দুটিই তাদের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয়বস্তু। আর মূলধারার দলগুলোর বিরুদ্ধে তারা আনছে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ। ৫৬৬ জন প্রার্থী দেওয়া নতুন দল তেহরিক-ই-লাবাইক পাকিস্তান সরাসরি ‘ধর্ম অবমাননাকারীদের মৃত্যু চাই’ স্লোগান নিয়ে মাঠে রয়েছে।

নতুন দলগুলো তো আছেই, তাদের সঙ্গে নওয়াজবিরোধী মূলধারার দলগুলোও পিএমএল-এনের বিরুদ্ধে অনবরত ধর্ম অবমাননা ও দেশদ্রোহের অভিযোগ করে চলেছে। তাদের সবার অভিযোগ, নওয়াজের দল দেশকে পশ্চিমাদের ধামাধরা বানিয়ে ফেলছে এবং ইসলামী মূল্যবোধ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগ করতে থাকা মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন খোদ ইমরান খান। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নবী, আমাদের নবীই হচ্ছেন শেষ নবী—এ কথা যদি আপনি বিশ্বাস না করেন, তবে আপনি মুসলিম হতে পারেন না।’

পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, এরই মধ্যে জাঁকিয়ে বসা সশস্ত্র ইসলামপন্থী দল ও চরমপন্থীদের মূল রাজনীতিতে যুক্ত করার যে প্রস্তাব সেনাবাহিনী ২০১৬ সালে করেছে, তার জেরেই কট্টরপন্থী দলগুলোর এমন বাড়বাড়ন্ত। উভয় পক্ষই অবশ্য পরস্পরের সঙ্গে সব রকম সংযোগের খবর অস্বীকার করছে।

দু-পক্ষের এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে লেখক ও বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘সেনাবাহিনী নতুন জাতীয়তাবাদ গড়তে চায়। তারা নতুন পরিচয় চায় আর সেটা হলো ইসলামী পরিচয়।’ মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্বল করে দিয়ে নতুন পরিচয় প্রতিষ্ঠা করার জন্যই সেনাবাহিনীর যত চেষ্টা। তবে সব চেষ্টার পরও তারা ডজনখানেকের বেশি আসন পাবে না বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

কট্টরপন্থী যেসব দল এরই মধ্যে নিষিদ্ধ, তাদের অনেক প্রার্থী আইনি মারপ্যাঁচ পেরিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই যেমন হাফিজ মুহাম্মদ সাঈদের মিল্লি মুসলিম লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ওই দলের প্রার্থীরা নিবন্ধিত দল আল্লাহু আকবার তেহরিকের হয়ে নির্বাচন করছেন এবং প্রকাশ্যে সাঈদের ছবি পোস্টারে ব্যবহার করছেন। সাঈদ হলেন ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার প্রধান আসামি।

নিষিদ্ধ বা অনিবন্ধিত দলের লোকজনের অন্য দলের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র আলতাফ খান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিবন্ধিত হয়ে থাকে এবং তারা আইনি প্রক্রিয়া পার হয়ে আসে, তবে তাতে দোষের কী আছে?’ নিষিদ্ধ দলগুলো অন্য নামে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

 



মন্তব্য