kalerkantho

হেলসিংকিতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক আজ

কথা হবে আট বিষয়ে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কথা হবে আট বিষয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকারের সংকট আর রাশিয়ায় সংকট গণতন্ত্রের—এসব ইস্যুতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক সামনে রেখে গতকাল হেলসিংকিতে সিনেট স্কয়ারে মানবাধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করে। ছবি : এএফপি

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে আজ সোমবার বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিজেদের প্রথম এ সাক্ষাতে দুই নেতা কিছু বিষয়ে একে অন্যকে সমর্থন জানাবেন ঠিকই, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান একেবারে বিপরীতমুখী। এসব ইস্যু নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’। পাঠকদের জন্য সেই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো—

মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরই অভিযোগ ওঠে, ওই নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল। বলা হয়, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে আঁতাত করে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা হ্যাকিংসহ নানাভাবে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারকে প্রভাবিত করেছেন। রাশিয়া অবশ্য শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি বলেন, ‘মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ যেকোনোভাবেই ওয়াশিংটন মেনে নেবে না, তা পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেবেন।’

ইউক্রেন যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের অভিযোগ, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মস্কো সামরিক সহযোগিতা দেয়। রাশিয়া অবশ্য কখনো এ অভিযোগ স্বীকার করেনি। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইউক্রেন সরকারের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র তুলে দেওয়ার বিরোধী। তাদের আশঙ্কা, এতে অস্থিরতা আরো বাড়বে। যদিও গত মার্চে ইউক্রেনের কাছে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন, যা মস্কো মোটেও ভালোভাবে নেয়নি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত বছরের এপ্রিলে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। রাশিয়া ওই বিমান হামলার তীব্র বিরোধিতা করে। এর বাইরে গত ফেব্রুয়ারিতে মস্কো দাবি করে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় সিরিয়ায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছে।

ন্যাটো নিয়ে উত্তেজনা

সম্প্রতি রাশিয়া সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমাদের সামরিক জোট—ন্যাটো। রাশিয়া মনে করে, তাদের পরোক্ষভাবে হুমকি দিতেই ন্যাটো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া ন্যাটোর আরেকটি পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া। ২০১০ সালের ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপে একটি ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী দুর্গ তৈরি করবে ন্যাটো। ২০২০ সালে এর নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের পরমাণু চুক্তি

গত মে মাসে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। রাশিয়াসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে। এর মধ্যে রাশিয়া ইউরোপের দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই যেন চুক্তিটি রক্ষা করা যায়।

উত্তর কোরিয়া

গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তাঁদের মধ্যে একটি চুক্তিও সই হয়। উত্তর কোরিয়ার অন্যতম মিত্র রাশিয়া চুক্তির প্রশংসা করে এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে উনের প্রতিশ্রুতিকে অভিনন্দন জানায়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ওই সময় বলেন, ‘ট্রাম্প উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া শুরু করায় আমরা আশাবাদী হয়ে উঠেছি।’

গুপ্তচর হত্যার চেষ্টা

কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্যে সাবেক এক রুশ গোয়েন্দা এবং তাঁর মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে একধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়। যুক্তরাজ্য এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে এবং বেশ কয়েকটি দেশ একযোগে রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ছিল।

বাণিজ্য যুদ্ধ

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব দেশের মধ্যে রাশিয়াও আছে। রাশিয়াও চলতি মাসের শুরুতে বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বসিয়েছে।

সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য