kalerkantho


শেষমেশ ট্রাম্পের দাবিই মেনে নিল ন্যাটো

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



শেষমেশ ট্রাম্পের দাবিই মেনে নিল ন্যাটো

সামরিক ব্যয় বাড়ানোর ‘মার্কিন দাবি’ মেনে নিয়েছে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ব্রাসেলসে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ন্যাটো সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা নিজেদের জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ সামরিক খাতে খরচ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৯টি দেশ পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, জোটের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, অন্যরা তা করে না। সম্প্রতি এমন গুঞ্জনও ওঠে যে ট্রাম্প যেকোনো সময় ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।

গত বুধবার ব্রাসেলসে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনেও এ নিয়ে মিত্রদের, বিশেষ করে জার্মানির কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি এমন কথাও বলেন যে ‘জার্মানি পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।’ জার্মানি নিজেদের আমদানীকৃত গ্যাসের প্রায় অর্ধেক রাশিয়া থেকে কেনায় মূলত এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

গতকাল দ্বিতীয় দিনের সম্মেলন শুরুর আগেও টুইটার বার্তায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর সম্মেলনের শুরুতেই তিনি দাবি তোলেন, জোটের সদস্যদের সামরিক ব্যয় বাড়াতে হবে। শেষমেশ ট্রাম্পের দাবি নিয়ে নির্ধারিত অধিবেশনের বাইরেও আলাদা করে বৈঠকে বসেন জোটের নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, গতকাল সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২৪ সাল নয়, আগামী বছরেই জোটের সব সদস্যকে জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ সামরিক খাতে খরচ করতে হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই হার ৪ শতাংশ করার দাবিও তোলেন তিনি। এ ছাড়া সামরিক খাতে কম অর্থ খরচ করায় জার্মানি এবং চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলেরও সমালোচনা করেন তিনি। ওই কূটনীতি বলেন, ‘ট্রাম্প কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এসব দেশের মধ্যে জার্মানির নামই তিনি বেশিবার নিয়েছেন।’ সূত্রটি জানায়, মূলত এর পরই নির্ধারিত অধিবেশনের বাইরে আলাদা করে বৈঠক ডাকেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ।

ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আজকের বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সম্মেলনকক্ষে সবার মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, তা ছিল বিস্মিত হওয়ার মতো।’ তিনি বলেন, জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা জিডিপির ২ শতাংশের বেশি অর্থ সামরিক খাতে খরচ করবে। ট্রাম্প এও বলেন যে তিনি ন্যাটোতে বিশ্বাস করেন এবং ‘এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করার কোনো প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে নেই।’

পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যই সামরিক ব্যয় বাড়ানোর ব্যাপারে পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এদিকে ‘জার্মানি পুরোপুরি রাশিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত’—ট্রাম্পের এমন মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘শুধু গ্যাস কেনার কারণে একটি দেশ আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত—এমন তত্ত্ব আমরা বিশ্বাস করি না।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

আফগান যুদ্ধ অবসানে তৎপর হচ্ছে ন্যাটো

ব্রাসেলসের ন্যাটো সম্মেলনে আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানে তৎপর হওয়ার চেষ্টা নিচ্ছেন নেতারা। গতকাল ন্যাটো সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নেতারা আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে মনোযোগী হন।

এই দিনে আফগান তালেবান জঙ্গিরা একটি সামরিক ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ৩০ সেনাকে হত্যা করেছে। ন্যাটো সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় জোটের বাইরের সদস্যদেরও স্বাগত জানান নেতারা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ আশা করছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অর্থ সরবরাহ করতে জোট একমত হবে। ন্যাটো মহাসচিব চান নেতারা ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে তহবিল সরবরাহে রাজি হোক। আর গড়ে প্রতিবছর ন্যাটোর প্রায় ১০০ কোটি ডলারের যে তহবিল আসে, সেটিও পূরণ হোক।

 



মন্তব্য