kalerkantho


আটক শিশুদের কান্না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘আমি চাই না ওরা আমার বাবাকে থামাক। আমি চাই না ওরা আমার বাবাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিক।’ স্প্যানিশ ভাষায় ফিসফিস করে বলছে একটি শিশু। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশী মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের যে অডিওটি নিয়ে দুই দিন ধরে অনলাইনে ঝড় চলছে তার শুরুটা এভাবেই। অলাভজনক তদন্তকারী সংগঠন প্রপাবলিকার গত সোমবার প্রকাশিত এই অডিওটি ভীত শিশুদের কান্নাকাটি আর মা-বাবাকে ডাকাডাকির আহাজারিতে পূর্ণ।

এই ধারণকৃত অডিওতে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুদের কান্নাকাটিকে তুলনা করেন ‘অর্কেস্ট্রার’ সঙ্গে। প্রপাবলিকার দেওয়া ভাষ্য মতে, ওই সীমান্ত এজেন্টের পরবর্তী বাক্যটি ছিল, ‘শুধু একজন কন্ডাক্টরের অভাব।’

গত সপ্তাহে বর্ডার প্রটেকশন ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি থেকে এই অডিওটি ধারণ করা হয়। পরে এটি মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী জেনিফার হারবুরির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ধারণকারীর পরিচয় জানানো হয়নি। অডিওটির সত্যতার বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হারবুরির কাছ থেকে অডিওটি প্রপাবলিকার হস্তগত হয়।

অডিওটির শিশুদের বয়স চার থেকে ১০ বছরের মধ্যে। মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অডিওটি ধারণ করা। ‘শিশুগুলোর ঘা তখনো কাঁচা।’ কর্মকর্তারা খাবার বা খেলনা দিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেও পারেননি।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সব আটক কেন্দ্রের একাধিক ছবিতে দেখা যায়, শিশুগুলোকে খাঁচার মতো লোহার রড দিয়ে তৈরি আলাদা আলাদা কামরায় বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু শিশুকে মেঝেতেও বসে থাকতে দেখা যায়। শোনা যাচ্ছে শিগগিরি অতিরিক্ত শিশুদের জন্য টেক্সাসের মরুভূমিতে তাবুর ব্যবস্থা করা হবে।

অডিওতে একটি শিশুকে তার খালার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চাইতে শোনা যায়। শিশুটিকে তার মা বলেছেন এমন পরিস্থিতি হলে খালার সঙ্গে কথা বলতে হবে। খালার ফোন নম্বরও শিখিয়ে দিয়েছেন। তবে শিশুটির খালার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তিনি নিজেই ৯ বছরের একটি শিশুসহ অভিবাসনের জন্য লড়াই করছেন। কোনোভাবেই তাঁর পক্ষে আটক শিশুকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সূত্র : সিএনএন।

 



মন্তব্য