kalerkantho


জি-সেভেন সম্মেলন

যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবে না যুক্তরাষ্ট্র

ট্রুডো ভদ্রতার অভিনয় করেন : ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের বাকি ছয় দেশের তুমুল বিরোধের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের ‘জি-সেভেন’ সম্মেলন। শুরুতে একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মতি দিলেও কয়েক ঘণ্টা পর তা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এদিকে কানাডার কুইবেকে জি-সেভেনের সদস্যরা যখন ‘কলহে’ লিপ্ত ছিলেন, তখন চীনে এক ‘শান্তিপূর্ণ’ বৈঠক করছিলেন রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সদস্যরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যথাক্রমে ২৫ ও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব দেশের মধ্যে কানাডা, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিও রয়েছে, যারা কিনা জি-সেভেন জোটের সদস্য। এ কারণে এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের বাকি ছয় সদস্যের বিরোধের বিষয়টি অনুমেয়ই ছিল।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বিরোধ সত্ত্বেও গত শনিবার বৈঠকের শেষ দিনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত যে আমরা জোটের সব দেশের সম্মতিতে একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করতে পেরেছি।’

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র যৌথ ঘোষণা থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে এবং তাতে সই করবে না। জি-সেভেনের ওই যৌথ ঘোষণায় বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ ছিল।

শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রুডো। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কের জবাব দিতে কানাডা ১ জুলাই পদক্ষেপ নেবে। ট্রুডো বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) খুব স্পষ্টভাবে বলেছি, এটা এমন কোনো বিষয় (পাল্টা পদক্ষেপ) নয়, যা আমরা করতে পছন্দ করি। কিন্তু এটা আমরা অবশ্যই করব।’ ট্রুডো আরো বলেন, ‘কানাডার মানুষ খুবই নম্রভদ্র। আমরা যুক্তিবাদী। আমরা কাউকে হুমকি দিই না।’

ট্রুডোর এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প টুইটারে আরেকটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি ট্রুডোর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রুডো নম্রভদ্রের অভিনয় করেন বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডেইরি ফার্মের ওপর কানাডার যে ২৭০ শতাংশ শুল্ক আছে, তার জবাবেই আমরা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এর আগে কানাডা ছাড়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে অন্যান্য দেশ বাণিজ্য খাতে বেশি সুবিধা পাক। ‘পরিস্থিতি বদলাতে যাচ্ছে। সবাই আমাদের শিশুর পয়সা জমানোর কৌটা ভাববে এবং তা লুট করবে—সেই দিন শেষ।’

এদিকে জি-সেভেন সম্মেলন যেদিন শেষ হয়, ঠিক একই দিন চীনের কিংদাও শহরে শুরু হয় এসসিওর সম্মেলন। এতে এবারই প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছে জোটের দুই নতুন সদস্য—ভারত ও পাকিস্তান। রাশিয়া ও চীনের নেতারা এসসিওর এই সম্প্রসারণের প্রশংসা করেছেন। চীন ও ভারতকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

জোটের সদস্য না হয়েও এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোয় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তেহরান এখন বেইজিং ও মস্কোর সহযোগিতা চাচ্ছে। আর সে কূটনৈতিক লক্ষ্যেই এসসিওর সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রুহানি।

গতকালের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র এবং জি-সেভেনের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে চিনপিং বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধ এবং জোটের সদস্যদের সঙ্গে লড়াইয়ের মানসিকতা আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া অন্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মানসিকতাও ছাড়তে হবে।’ সূত্র : সিএনএন, এএফপি।



মন্তব্য