kalerkantho


ট্রাম্পের সমান মনোযোগ কাড়ছেন তরুণ উন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পের সমান মনোযোগ কাড়ছেন তরুণ উন

একঘরে নেতা কিম জং উন এবার বৈশ্বিক অঙ্গনে আলোচনার একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার তাঁর দিকেও ক্যামেরা তাক করে রাখবে গণমাধ্যমগুলো। এদিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

১৯৫০-এর দশকে কোরিয়া যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে উত্তর কোরিয়া এবং এর শাসক পরিবার। উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা নেতা কিম ইল সাংয়ের আমল থেকেই দেশটি একঘরে হয়ে আছে। তাঁর ছেলে কিম জং ইলের আমলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের নেতা উনের আমলে। দেশকে পরমাণু হামলায় সক্ষম করে তোলা এবং দেশের ভেতরে বসে থেকেই পরমাণু ইস্যুর জেরে বিশ্বনেতৃত্বকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলার মতো সক্ষমতা দেখিয়েছেন এ তরুণ নেতা।

মধ্য ত্রিশে থাকা উনের গতিবিধি সম্পর্কে এখন অল্পস্বল্প খোঁজখবর পাওয়া গেলেও তাঁর প্রথম জীবন একেবারে ধোঁয়াশায় ঘেরা। কিম জং ইলের তৃতীয় স্ত্রী জাপানি বংশোদ্ভূত কোরীয় নৃতশিল্পী কো ইয়ং হুইয়ের গর্ভে তাঁর জন্ম। উনের সঠিক জন্মতারিখ বহির্বিশ্বের আজও অজানা। তাঁর স্কুলজীবন সম্পর্কে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডে খালা-খালুর কাছে থেকে স্কুল পর্যায়ের পড়ালেখা করেছেন তিনি। সহপাঠীদের কাছে তিনি লাজুক হিসেবেই পরিচিত। তাঁদের কেউ অবশ্য উনের আসল পরিচয় জানতেন না।

লাজুক এবং আপাতদৃষ্টিতে স্বল্পভাষী এ ছেলেটিকে অল্প বয়সেই মসনদে বসতে হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় বসার বহু আগেই তিনি জেনে গিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ তাঁরই হাতে। অষ্টম জন্মদিনেই তাঁকে দেওয়া হয় জেনারেলের পোশাক এবং সেদিন তাঁকে কুর্নিশ করেছিলেন দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের সবাই। সত্যিকার ক্ষমতা যখন তাঁর হাতে দেওয়া হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০-এর কোঠায়।

উনের কাছের-দূরের সবাই ধরে নিয়েছিল, এত অল্প বয়সী অনভিজ্ঞ শাসক হিসেবে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ ও ঊর্ধ্বতনদের দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হবেন। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি ও সেনাবাহিনী উভয় পরিসরে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি, প্রয়োজনে নিষ্ঠুর হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে একে সরিয়ে দিতেও তাঁর চিত্ত দুর্বল হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয় ২০১৩ সালে আপন ফুফাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা। এ ছাড়া গত বছর সত্ভাই কিম জং নামকে বিষ প্রয়োগে হত্যার জন্যও উন দায়ী বলে মনে করেন সমালোচকরা।

ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য উন শুধু দেশের রাজনীতিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নজর দিয়েছেন, তা নয়। আন্তর্জাতিক শত্রুর কাছ থেকে সুরক্ষার স্বার্থে তিনি নিশ্চিত করেছেন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা। অভিযোগ রয়েছে, দেশের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন উপেক্ষা করে তিনি রাষ্ট্রের বেশির ভাগ অর্থ পরমাণু কর্মসূচিতে ঢেলেছেন। বহির্বিশ্বের অভিযোগ, সমালোচনা, নিষেধাজ্ঞা—সব কিছুর মধ্যেও নিজের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে গেছেন এবং লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত অত্যন্ত যুদ্ধংদেহী অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এটাই ছিল উত্তর কোরিয়া ও উনের জন্য স্বাভাবিক চিত্র। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে এর পরই।

আক্রমণাত্মক ধারা থেকে সরে এসে কূটনীতির সুরে কথা বলতে শুরু করেন উন। কূটনীতিতে তিনি দ্রুতই সাফল্য অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি যেখানে একসময় ‘ভীমরতিগ্রস্ত মার্কিন বুড়ো’ বলেছেন, সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গেই আগামীকাল তিনি এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন। চুলের ছাঁট আর পোশাক থেকে শুরু করে বক্তৃতা দেওয়ার ঢং পর্যন্ত আপাদমস্তক দাদাকে অনুসরণ করা উন আজ ট্রাম্পের মতোই গোটা বিশ্বের মনোযোগ কাড়ছেন।

সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য