kalerkantho


‘বৈঠক’ অনিশ্চয়তার মধ্যেই পরমাণুকেন্দ্র ধ্বংসের আয়োজন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



‘বৈঠক’ অনিশ্চয়তার মধ্যেই পরমাণুকেন্দ্র ধ্বংসের আয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের মধ্যকার নির্ধারিত বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে—খোদ ট্রাম্পের মুখ থেকে গত মঙ্গলবার এমন বক্তব্য আসায় বৈঠক হওয়া না হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। তা সত্ত্বেও পরদিন বুধবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তারা নিজেদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রটি অঙ্গীকার অনুযায়ী ধ্বংস করবে।

সিঙ্গাপুরে আগামী ১২ জুনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প-উন কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, উনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘১২ জুন বৈঠকটা নাও হতে পারে। সেটা পরেও হতে পারে।’

উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দ্বন্দ্ব এখনো কাটেনি। এ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পরস্পরকে বৈঠক বাতিলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই, নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করা হোক। আমি মনে করি, সেগুলো পূরণ করা হবে। কিন্তু সেসব শর্ত যদি পূরণ করা না হয়, তবে আমাদের বৈঠক হবে না।’

যুক্তরাষ্ট্র একতরফা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে চাইলে বৈঠক হবে না বলে যে হুমকি উত্তর কোরিয়া দিয়েছে, সে ব্যাপারে ট্রাম্পের অভিমত, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ইশারায় এত শক্ত কথা বলছে পিয়ংইয়ং। বলা দরকার, গত ৭-৮ মে দ্বিতীয় দফা গোপনে চিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন উন। এর আগে মার্চে তিনি চীন সফর করেন। উনের দ্বিতীয় দফা চীন সফরের পরপর উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে হুমকি আসে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফা চাপ দিতে থাকলে আগামী ১২ জুনের বৈঠক বাতিল করা হবে। সেটা স্মরণ করে ট্রাম্প গত মঙ্গলবার বলেন, ‘কিম জং উন দ্বিতীয়বার চীন থেকে আসার পর একটা পার্থক্য ঘটেছে। ওই সাক্ষাতের (উন-চিনপিং) পর আচরণে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে এবং আমি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি। ব্যাপারটা আমার ভালো লেগেছে, সেটা তো আমি বলতে পারি না।’ সেই সঙ্গে ট্রাম্প এটাও বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐকমত্য হলে ‘তিনি (উন) অত্যন্ত আনন্দিত হবেন। তিনি খুবই আনন্দিত হবেন’। পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ব্যাপক বিনিয়োগের আশ্বাস দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প-উন বৈঠক শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সেটা নিয়ে দোলাচল থাকলেও এটা নিশ্চিত, উত্তর কোরিয়া তাদের পুঙ্গি রি পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্র ধ্বংস করতে যাচ্ছে। এ মাসের শুরুতে পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্রটি ধ্বংসের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল পিয়ংইয়ং। গতকাল তারা জানায়, আবহাওয়া ভালো থাকলে আজ বৃহস্পতিবার বা আগামীকাল শুক্রবার দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে পরীক্ষাকেন্দ্রটি ধ্বংস করা হবে।

বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে থাকছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চার স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন ও রাশিয়ার সাংবাদিকরা। প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবাদিকদেরও শেষ মুহূর্তে পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্র ধ্বংসের সাক্ষী করার সিদ্ধান্ত নেয় পিয়ংইয়ং। তাদের দক্ষিণ থেকে বিমানে করে উত্তরে আসার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া অন্য বিদেশি সাংবাদিকদের গতকাল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা করানো হয়েছে। টানা ২০ ঘণ্টার ট্রেন-বাস-হাঁটা পথের যাত্রা শেষে তাঁরা পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছবেন।

সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

 



মন্তব্য