kalerkantho


ফল প্রত্যাখ্যান বিরোধীদের

মাদুরোই প্রেসিডেন্ট ভেনিজুয়েলার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



মাদুরোই প্রেসিডেন্ট ভেনিজুয়েলার

এক বছর আগেও খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন, সমস্যায় জর্জরিত ভেনিজুয়েলায় নিকোলা মাদুরো দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। কিন্তু গত রবিবারের নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। যদিও বিরোধী দলসহ অনেকেই নানা অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত রবিবার গ্রহণ করা ওই ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে মাদুরো ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছে। তারা বলেছে, এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

দক্ষিণ আমেরিকার ভঙ্গুর অর্থনীতির এই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরোর প্রথম মেয়াদের অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না। খাদ্য সংকটের প্রতিবাদে গত বছরের বিক্ষোভে দেশটিতে ১২৫ জন নিহত হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের পর অবশ্য নিজেকে আগের চেয়ে ‘পরিপক্ব’ দাবি করেছেন মাদুরো। রবিবার রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আবার জিতেছি। আবার সফল হয়েছি।’ নির্বাচনে মাদুরোর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পাওয়া হেনরি ফ্যালকন বলেছেন, তিনি ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

একসময়কার বাসচালক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাদুরোর অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে জয়লাভ নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। তবে পূর্বসূরি হুগো শাভেজের মতো জনপ্রিয়তা তিনি এখনো অর্জন করতে পারেননি।

পোলিং এজেন্সি ‘দেলফোস’-এর প্রধান ফেলিক্স সেইজাস বলেন, ‘মাদুরোর জন্ম হয়েছিল শাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে। কিন্তু এখন আমরা অন্য মাদুরোকে দেখতে পাচ্ছি, যিনি বুঝে গেছেন তিনি অনেক শক্তিশালী এবং অনেক বেশি আগ্রাসী।’

মাদুরোর প্রথম মেয়াদে ভেনিজুয়েলায় অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য ও অপরাধের ক্রমবর্ধন হার, সড়কে অনবরত বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক মহলের নানা নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ ছাড়া ওই সময় লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিল।

ওই সময়কার কথা তুলে ধরে সম্প্রতি মাদুরো বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমি শিক্ষানবিশ ছিলাম। এখন আমি লড়াকু মাদুরো, যার লড়াই করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই মাদুরো অভ্যন্তরীণ অপশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এই মাদুরো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

মাদুরোর বিরুদ্ধে সমালোচকদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন এবং নিজেকে ‘একনায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শাভেজের চোখে মাদুরো ছিলেন ‘বিশুদ্ধ ও পরিশ্রমী বিপ্লবী’। কিন্তু শাভেজের সাবেক কিছু সমর্থকের মনে এ নিয়ে সন্দেহ আছে। শাভেজের সময়কার মন্ত্রী অ্যানা এলিসা ওসোরিও বলেন, “মাদুরো আসলে ‘মাদুরিস্তা’ (মাদুরোর রাজনৈতিক দর্শন অর্থে) হয়েছেন, তিনি ‘শাভেস্তা’ হতে পারেননি।”

মাদুরোর দাবি, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজন শাসক এবং একটা অর্থনৈতিক লড়াইয়ে লিপ্ত আছেন। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ভেনিজুয়েলার ডানপন্থীরা এ লড়াই বাঁধিয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেস ক্যানিজালেজ বলেন, ‘মাদুরোকে শুধু বিরোধীরা নয়, শাভেজের অনেক অনুসারীই অবজ্ঞা করেন। কিন্তু তিনি অন্যদের ভুলের সুযোগ নিয়ে টিকে আছেন। এ ছাড়া নিজের শত্রুদের নিষ্ক্রিয় করার দক্ষতাও তাঁর আছে।’ সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

 

 


মন্তব্য