kalerkantho


ট্রাম্প-ম্যাখোঁকে হুঁশিয়ারি ইরানের

পরিবর্তন চাইলে গোটা চুক্তিই বাদ যাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



পরিবর্তন চাইলে গোটা চুক্তিই বাদ যাবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর প্রস্তাবিত নতুন পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। গতকাল বুধবার তেহরানে এক ভাষণে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেসিপিওএ (জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) নামের চুক্তিটির কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে গোটা চুক্তিই বাদ যাবে।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে শীর্ষ বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও ম্যাখোঁ ইরানের মিসাইল কর্মসূচি ও সিরিয়া-ইয়েমেনসহ আঞ্চলিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে ইরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তির চেষ্টা করছেন বলে ঘোষণা দেন। এর এক দিন পর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যে গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বর্তমান চুক্তিটি সংরক্ষণে জোরারোপ করেছেন। রাশিয়াও ইরানকে সমর্থন দিয়ে বলেছে, বর্তমান চুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

তেহরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রুহানি বলেন, ‘জেসিপিওএ নামে আমাদের একটি চুক্তি রয়েছে। এটা হয় টিকে থাকবে, নতুবা না। যদি জেসিপিওএ এ চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হয়, তাহলে তা হুবহুই রাখতে হবে।’ প্রসঙ্গত, ইরান পরমাণু চুক্তি নামে পরিচিত চুক্তিটি কাগজে-কলমে জেসিপিওএ নামে পরিচিত।

ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির চুক্তিকে ট্রাম্প ‘পাগলামি’ ও ‘হাস্যকর’ বলায় এর শ্লেষাত্মক জবাবও দিয়েছেন রুহানি। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রাজনীতিতে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আইন বিষয়েও আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়েও আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সুতরাং কিভাবে একজন দোকানদার, ব্যাপারী, একজন ভবন বা টাওয়ার নির্মাতা আন্তর্জাতিক বিষয় মূল্যায়ন করতে পারবেন?’

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। সেখানে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাখোঁ বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন একটি পরমাণু চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে তাঁরা প্রস্তুত। তিন বছর আগে করা চুক্তিটি আরো ‘জোরদার’ করতেই নতুন চুক্তি হতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, আমাদের দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে অনেক খোলামেলা কথা হয়েছে। সুতরাং ইরানের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করতে এখন থেকে আমরা চেষ্টা করব।’ এর আগে রুহানি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে তাঁরা পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি শুরু করবেন।

এ নিয়ে অনেক আগে থেকেই কথা বলে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিন থেকেই তিনি চুক্তিটিকে ‘পাগালামি’ ও ‘হাস্যকর’ বলে আসছেন। ২০১৫ সালের এ চুক্তিটি নিয়ে তিনি তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার প্রশাসনেরও তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ১২ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, বর্তমান চুক্তির উদ্যোগ না দিলে তিনি ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে চিন্তা করবেন।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তেহরানকে ‘চুক্তি ভঙ্গ হলে পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি’ শুরুর ব্যাপারে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা যদি পরমাণু কর্মসূচি আবার শুরু করে তাহলে তাদের ভয়ানক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে, যা আগে কখনো তাদের মোকাবেলা করতে হয়নি।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো চুক্তিটির পক্ষেই কথা বলছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, নিরাপত্তাকে অগ্রাহ্য করে ইরানের বিষয়ে ইইউ বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গতকাল ইইউর কূটনীতি প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি অবশ্যই পালন করে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, আমরা ভবিষ্যতে তা দেখব। কিন্তু এখন একটি চুক্তি বলবৎ আছে। এটি কার্যকর। এর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন রয়েছে।’ ব্রাসেলসে সিরিয়াসংক্রান্ত এক দাতা সম্মেলনে সাবেক এই ইতালিয়ান কূটনীতিক এ মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে গতকাল মস্কো ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এখন পর্যন্ত এই চুক্তির কোনো বিকল্প নেই। আমরা এই দাবি জানাচ্ছি, ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হলে তাতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

 

 


মন্তব্য