kalerkantho


রাশিয়া প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে জি-৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ জি-৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাত থেকে নিজেদের গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। কানাডার টরন্টো শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠক থেকে এ প্রত্যয় জানানো হয়।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নির্বাচনকে বিঘ্নিত করা, ব্রিটিশ ভূখণ্ডে রুশ সাবেক ডাবল এজেন্টকে নার্ভ গ্যাস প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার মূল্য রাশিয়াকে অবশ্যই চুকাতে হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, সেলসবারির হামলার বিষয়ে তাঁর সহকর্মীদের অবস্থান জি-৭-এর শক্তিশালী সংহতিরই বার্তা দেয়। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি কার্যকর গ্রুপ গঠন করা হবে বলে জানান তাঁরা। ওই সময় ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এবং আমাদের গণতন্ত্রের সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে জি-৭।’

এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভানও উপস্থিত ছিলেন। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ নেবেন কি না সে প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও তিনি সিরিয়ায় আসাদ সরকারের রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন তিনি। সুলিভানের পরিবর্তে এ সপ্তাহেই দায়িত্ব নিতে পারেন সিআইএর বিদায়ী প্রধান মাইক পম্পেও।

রাশিয়া প্রসঙ্গে জি-৭ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে চাইলেও ইরান প্রসঙ্গে এই গ্রুপটি সমঝোতায় আগ্রহী। ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু চুক্তিটি বহাল রাখতে চায় তারা। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিপরীত অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করেই বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে যে চুক্তি সই হয়েছিল তা তাঁর পছন্দ নয়। চুক্তির সংশোধন ও পরিমার্জন না হলে তিনি আগামী ১২ মের পর এর থেকে বের হয়ে যাবেন। যদিও ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি প্রবলভাবে এ চুক্তির পক্ষে। তিনটি দেশই চাইছে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিতে থাকুক। যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে এ চুক্তিতে থাকা সম্ভব কি না তা নিয়েও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী এই দেশ তিনটি। ইরান অবশ্য ইতিমধ্যে হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে আবারও পরমাণু কর্মসূচি চালু করবে তারা। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য