kalerkantho


‘দেখলাম সাদা ভ্যান লাল হয়ে যাচ্ছে’

টরন্টোতে ভিড়ে ভ্যান তুলে দিয়ে হত্যাকাণ্ড

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘দেখলাম সাদা ভ্যান লাল হয়ে যাচ্ছে’

কানাডার টরন্টোতে সোমবার গাড়ি হামলায় নিহতদের উদ্দেশে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানায় স্থানীয়রা, লিখে রেখে যায় বার্তাও। ছবি : এএফপি

‘আমি দেখলাম একটি সাদা ভ্যান রাস্তা থেকে ফুটপাথে উঠে গেল। চালক লোকজনের ওপর দিয়েই ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল সেটি। সাদা ভ্যানটি ক্রমেই লাল হয়ে উঠছিল রক্তে। সামনে থাকা সবাইকে পিষে মারার চেষ্টা করেছে চালক।’ কানাডার টরন্টোতে ভিড়ের মধ্যে ভ্যান তুলে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর এই ছিল একজনের বক্তব্য। বলছিলেন, ‘আমি এখনো ওই ঘটনা থেকে বের হতে পারিনি। বিশ্বাস হচ্ছে না এমন কিছু ঘটেছে।’

টরন্টোতে সোমবার বিকেলের ওই ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০ জন। আহত হয় ১৫ জন। ভিড়ে ভ্যান তুলে দেওয়ার সময় গাড়ির বেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। প্রায় এক মাইল দীর্ঘ ছিল গাড়ির ওই তাণ্ডব। ওই বিভীষিকার সময়টিকে মনে করতেও ভয় পাচ্ছিল অনেক প্রত্যক্ষদর্শী। চেলসি লুয়েলো নামে ক্যাপ্রিসিও ক্যাফের এক কর্মী বলেন, ‘শুরুতে মনে হচ্ছিল গাড়ির চালকের হয়তো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তবে পরে বোঝা যাচ্ছিল, ইচ্ছা করেই এ কাজ করছে সে। একের পর এক মানুষকে ধাক্কা দিচ্ছিল তার গাড়ি। লোকজন পড়ে যাওয়ার পর তাদের ওপরে চাকা তুলে দিচ্ছিল। দুঃস্বপ্নের মতো ঘটে গেছে পুরো ঘটনা। শিশুসহ একটি স্ট্রলার গাড়ির ধাক্কায় বাতাসে উড়ছিল। মাটিতে পড়ার আগেই দুই টুকরা হয়ে যায়।’ ওই স্ট্রলারের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে তা দেখার সাহস আর তাঁর হয়নি।

ওই রাস্তাতেই তাফতান কাবাব নামের একটি রেস্তোরাঁ চালান বারসাত নুরাই। ঘটনার সময় সেখানেই ছিলেন তিনি। তাঁর রেস্তোরাঁর সামনে দিয়েই যায় ওই ভ্যান। রেস্তোরাঁর বাইরে রাখা কয়েকটি বেঞ্চও ওই ভ্যানের চাকার নিচে পড়ে। দুই-তিনজনকে আহত অবস্থায় ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। ক্রিস্টিয়ান আলী নামের আরেক ব্যক্তি বলছিলেন, মাঝ রাস্তায় অচেতন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। এক নারীকে দেখেছেন কংক্রিটের ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে। মনে হচ্ছিল রক্তের পুকুরে ভাসছেন। হয়তো বেঁচে ছিলেন না।

দিয়েগো ডেমাটোর নামের এক ব্যক্তি জিমে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে এ ঘটনার পর বহু আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন সাধারণ ‘হিট অ্যান্ড রানের’ ঘটনা। পরে বুঝতে পারেন ইচ্ছা করে বহু লোককে হতাহত করতেই এই হামলা। তিনি বলেন, এক আহতকে দেখে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যান তিনি। তোলার চেষ্টা করতেই মারা যায় ওই ব্যক্তি। পাশেই স্কার্ফ পরা এক নারী ছিলেন। তিনি নিজের স্কার্ফটি নিহত ব্যক্তিকে ঢাকার জন্য খুলে দেন। সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স।

 



মন্তব্য