kalerkantho


ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচমেন্টের নোটিশ নাকচ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচমেন্টের নোটিশ নাকচ

ছবি: ইন্টারনেট

ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রকে অভিশংসন বা ইমপিচ করার জন্য প্রস্তাব তোলার একটি নোটিশ নাকচ করে দিয়েছেন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু। গত শুক্রবার কংগ্রেসসহ সাতটি বিরোধী দল এই নোটিশ দেয়। গতকাল সোমবার নোটিশটি খারিজ করে দিয়ে নাইডু বলেন, নোটিশে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বিরোধী এমপিরাই নিশ্চিত নন। তাঁরা সন্দেহ ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগগুলো করেছেন।

এসংক্রান্ত ১০ পৃষ্ঠার এক নির্দেশে নাইডু আরো বলেন, ‘পার্লামেন্টের যেসব সম্মানিত সদস্য এই আরজি দাখিল করেছেন তাঁরা তাঁদের নিজেদের মামলার বিষয়েই নিশ্চিত নন। আবেদনের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘প্রধান বিচারপতি হয়তো অবৈধ তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন’ জাতীয় বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। ওই নোটিশে আরো ধারণাপ্রসূত অভিযোগ রয়েছে। এই নোটিশে এমপিরা বিনা দ্বিধায় কোনো অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেননি। এ ছাড়া কোন মামলা কোন বেঞ্চকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের একক এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির রয়েছে। ফলে এ নিয়েও বিরোধীদের অভিযোগ ধোপে  টেকে না।’ এই নোটিশ নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রবীণ বিচারকের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তে আসেন নাইডু।

এ ছাড়া তিনি নোটিশ দেওয়ার দিনই কংগ্রেস নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নোটিশ দেওয়ার পর তা রাজ্যসভায় গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে বাইরে আলোচনার সুযোগ রাজ্যসভার আইনে নেই। 

গত শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে কংগ্রেসের  দেওয়া ওই নোটিশে ৬৪ জন এমপি স্বাক্ষর করেন। প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের নোটিশে স্বাক্ষর করা দলগুলো হলো কংগ্রেস, শারদ পাওয়ারের দল এনসিপি, সিপিএম, সিপিআই, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে পাঁচটি অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে, কোন মামলা কোন বেঞ্চে যাবে, সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচার করেছেন। বিচারপতি হওয়ার আগে তিনি যখন ওড়িশা হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন, সেই সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি জমি নিয়েছিলেন।  এ ছাড়া ‘প্রসাদ এডুকেশন ট্রাস্ট কেস’ নামে একটি মামলায় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

দীপক মিশ্র প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত বছরের আগস্টে দায়িত্ব নেন। আগামী অক্টোবর মাসে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা। ভারতে প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ বছর হলে তাঁর অবসর নেওয়া বাধ্যতামূলক।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের দুটি কক্ষের অনুমোদনের পরই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে ইমপিচ করা সম্ভব। তবে অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন প্রেসিডেন্ট। ভারতে এ পর্যন্ত কোনো প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হতে হয়নি। যদিও অতীতে বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল; কিন্তু তাঁরা ওই সব প্রস্তাব পাস হওয়ার আগেই ইস্তফা দেন। সূত্র : দ্য হিন্দু,

টাইমস অব ইন্ডিয়া।



মন্তব্য