kalerkantho


ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভাঙলে জোরেশোরে পরমাণু মজুদ বাড়ানো হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভাঙলে জোরেশোরে পরমাণু মজুদ বাড়ানো হবে

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গেলে তেহরান তুমুলভাবে পরমাণুসমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ফের শুরু করবে। তারা প্রায় একই বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তির করার আগে উত্তর কোরিয়াকেও পরোক্ষভাবে সতর্ক করে দিয়েছে।

শনিবার নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘শান্তি স্থাপন ও শান্তি টেকসইকরণবিষয়ক’ উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন জারিফ।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরান পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টায় নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে প্রত্যাহারের সম্ভাব্য জবাব হিসেবে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধকরণ ফের শুরু করা হবে। জারিফ বলেন, ‘ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির ভয়ে ভীত হওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের দরকার নেই। তবে আমাদের পরমাণু সমৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাপকভাবে অগ্রসর হতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি’র ফয়সালা করতে ইউরোপীয় শরিকদের আগামী ১২ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ট্রাম্প চান, এর মধ্যে চুক্তির ধারা পরিবর্তন করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আরো সংকুচিত করতে, যাতে ইরান সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও চলতি মাসের শুরর দিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, চুক্তি ভঙ্গ করলে ওয়াশিংটনকে পস্তাতে হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই এর জবাব দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে দুই ইউরোপীয় নেতার ওয়াশিংটনে সফরে চুক্তিটির ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠবে। তাদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ আজ সোমবার এবং জার্মান প্রেসিডেন্ট অ্যাঙ্গেলা মার্কেল আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটন সফর করবেন।

জারিফ বলেন, চুক্তিতে থেকে যাওয়ার জন্য ইউরোপীয় নেতাদের অবশ্যই ট্রাম্পকে চাপ দিতে হবে। তবে ট্রাম্পকে বোঝানো যে সহজ হবে না, সে আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে শান্ত করার চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু আমি মনে করি, সেটা হবে শুধুই নস্ফিল চেষ্টা।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যায়, তাহলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানও চুক্তি থেসে সরে আসতে পারে। তিনি বলেন, এ চুক্তি থেকে উপকৃত হওয়াটাই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং একতরফাভাবে চুক্তিটির বাস্তবায়ন করে যাওয়া সম্ভব নয়।

তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহার করে নিলেও চুক্তিটির গুরুত্ব হারাবে না। যাতে আগামীতে ওয়াশিংটনে নতুন প্রশাসন এলে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ফের ফিরে আসতে পারে।

অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অন্যদের চাপ দিচ্ছে, তা বিশ্বের ‘অন্যান্য দেশের’ জন্য খুবই বিপজ্জনক বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন জাভেদ জারিফ। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠকের আগে এই মন্তব্য করে প্রকারান্তরে পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিলেন জারিফ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা শুধু ইরানি জনগণের জন্যই বিপজ্জনক বার্তা নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষের জন্যও বিপজ্জনক বার্তা যে চুক্তি করেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।’

সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য