kalerkantho


হকিং-বন্দনায় উদ্ভাসিত টুইটার

‘তোমার উড়াল চলুক সুপারম্যানের মতো’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের চিরপ্রস্থান বিজ্ঞানবিশ্বকে শূন্য করে গেছে। মৃত্যু নৈঃশব্দ্য তৈরি করে। হকিংয়ের মৃত্যুও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সেই নীরবতাকে ভেঙেই যেন সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো ভেসে যাচ্ছে শ্রদ্ধা, স্মরণ, মাতম আর বিরল এ প্রতিভার গুণকীর্তনে। যেখানে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বসহ বিশ্বের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বার্তা সংস্থা এএফপির দেওয়া টুইট সংকলন এখানে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নেইল দ্য গ্রাসে টাইসন তাঁর টুইটে বলেন, ‘তাঁর তত্ত্ব সম্ভাবনার এক জগৎ খুলে দিয়েছে। যা আমরা পুরো বিশ্ব এখন উন্মোচন করে চলেছি। মাইক্রোগ্র্যাভিটির জগতে সুপারম্যানের মতো তোমার উড়ে চলা অব্যাহত থাকুক। ২০১৪ সালে স্পেস স্টেশনে এ কথাই আপনি বলেছিলেন নভোচারীদের।’

এএসইউ নিউ স্পেনের তানিয়া হ্যারিসন লিখেছেন, ‘হকিং ছিলেন এক অসাধারণ ও বিরল প্রতিভা। বিদায় অধ্যাপক হকিং। আপনি আমাদের প্রেরণা জুগিয়েছেন, শিখিয়েছেন।’

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ লরেন্স এম ক্রস লেখেন, ‘শৈশবে তিনিই ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা। অসুখের কারণে একবার হুইলচেয়ার নিয়েছিলাম, বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর কাজ ওই সময় আমাকে সচল রাখে। ধন্যবাদ অধ্যাপক হকিং, আমার মতো মানুষদের মধ্যে আশা আর শক্তি সঞ্চারের জন্য। আপনার জন্যই যন্ত্রণার আঁধারেও এই মহাজগতের মাধুর্য অনুভবের চেষ্টা করছি আমরা।’

টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও, ‘মহাবিশ্বে হারিয়ে গেল একটি নক্ষত্র। এক অসাধারণ মানুষকে হারালাম আমরা। স্টিফেন হকিং আমাদের শিখিয়ে গেছেন সত্যিকার অর্থে মানুষ হওয়াকে কী করে উদ্যাপন করতে হয়।’ গুগুলের সিইও স্যান্ডার পাওয়ারের টুইটে ছিল, ‘শান্তিতে ঘুমান স্টিফেন হকিং। এই বিশ্বে তাঁর অবদানের শেষ নেই।’

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য স্টিফেন টুপিই তাঁর শোকবার্তায় বলেছেন, ‘অধ্যাপক হকিং লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। শুধু কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা বিশ্ব তাঁকে আবেগ ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।’

দ্য প্ল্যানেটরি সোসাইটি টুইটারে লিখেছে, ‘সুন্দর মনটিকে বিদায়!’

১৯৯১ সালে হকিংয়ের সঙ্গে ‘দ্য ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’ তথ্যচিত্র নির্মাণকারী পরিচালক ইরল মরিস বলেন, ‘বিশ্ব একটি সুন্দর মন, এক অসাধারণ বিজ্ঞানীকে হারাল। শান্তিতে ঘুমান স্টিফেন হকিং।’

ড্যান রাথের নামে এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, ‘এটি ঘটারই ছিল। এত দিন পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন বলেই আমরা ভাগ্যবান। আর আমি ভাগ্যবান এ কারণে যে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। অসাধারণ মানুষ। রসিক, স্বেচ্ছাচারী এবং অবশ্যই প্রতিভাবান।’

সাংবাদিক ল্যারি কিং বলেন, ‘এক জ্বলজ্বলে আলো হারাল বিশ্ব। ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা, অসাধারণ মমত্ব। সাহসী, প্রতিকূলতায় কখনো মাথা নোয়াননি। এবার আপনি শান্তিতে ঘুমান।’

যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা কেটি পেরি তাঁর টুইট বার্তায় লেখেন, ‘এ হতে পারে না! স্টিফেন হকিংয়ের খবরে আমি দুঃখ পেয়েছি। একই সঙ্গে আমি বুঝতে পারছি, শেষ সময়টিতে তিনি হয়তো নতুন কিছু শিখেছেন, হয়তো তাঁর মুখে হাসি লেগেই ছিল।’ সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য