kalerkantho


‘এএলএস’ যাঁর মগজের কাছে পরাজিত ছিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস)—এক বিরল স্নায়বিক রোগ। শরীরকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দ্রুত জীবনীশক্তি শেষ করে ফেলে। ১৯৬২ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে এই এএলএসে আক্রান্ত হন আধুনিক কালের সবচেয়ে প্রতিভাধর বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। গোড়াতেই চিকিৎসকরা তাঁকে মাত্র দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু মৃত্যুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিভাবে জীবনের আস্বাদ নেওয়া যায় তার সবচেয়ে বড় নজিরটিই সৃষ্টি করে গেছেন হকিং। কাজে, জীবনে, বিশ্ব আর মহাবিশ্বে ওই রোগকে সঙ্গী করেই তিনি রাজত্ব করে গেছেন পরবর্তী পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। 

বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এএলএস রোগী ছিলেন হকিং। শারীরিক সীমাবদ্ধতায় সীমিত হননি কখনোই। যন্ত্রচালিত হুইল চেয়ার, ডান দিকে একটু কাত করা মাথা—বিশ্ব এভাবেই তাঁকে দেখে গেছে বছরের পর বছর। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন হুইল চেয়ারে বসেই কী করে মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো যায়। যদিও এএলএস নিয়ে এ যাত্রা সহজ ছিল না। এই বিরল রোগ মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেয় আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই। মস্তিষ্কের মোটর স্নায়ু কোষ আক্রান্ত হয়, মেরুদণ্ড কার্যকারিতা হারায়। ফলে পেশি চালনা বাধাগ্রস্ত হয়ে চলাচলের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। যার অবধারিত ফল পক্ষাঘাত। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হচ্ছে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, এর দুর্বলতা। ধীরে ধীরে রোগী হাঁটা, কথা বলা, নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে।

খুবই বিরল এই রোগ—প্রতিবছর লাখে দুজন আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মানুষের এ রোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণা থেকে দেখা যায়, ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ হয় বংশগত কারণে। কোনো এক অজানা কারণে সাধারণ মানুষের চেয়ে সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের হার বেশি। মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষেতে রোগী ২০ বছরের চেয়ে বেশি বাঁচে।

হকিং সেই বিরল রোগীর একজন। তবে তাঁর পাঁচ দশকের দাপুটে জীবনের কারণ আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে আজও এক রহস্য। কখনোই হাল ছেড়ে দেননি হকিং। যদিও তাঁর পুরো জীবন কেটেছে হুইল চেয়ারে। কথা বলতেন কম্পিউটার স্পিচ সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে। অসাধারণ মানসিক জোর ছিল তাঁর। এর প্রমাণ মেলে এএলএস নিয়ে হকিংয়ের করা এক মন্তব্যে। বিখ্যাত এই বিজ্ঞানীকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, এএলএসের মতো মারাত্মক রোগ নিয়ে কী করে এত কিছু করেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার এই রকম কোনো রোগ আছে তা অনুভবই করি না। চেষ্টা করি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন কাটাতে। আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, এমন কোনো কিছুই পাত্তা দিই না।’ সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য