kalerkantho


সম্পর্কের গোড়াতেই ফাঁক ছিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সম্পর্কের গোড়াতেই ফাঁক ছিল

রেক্স টিলারসন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন বা অপ্রকাশ্য কোনো ঘটনা নয়। এক বছর আগে টিলারসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অস্বস্তিগুলো সামনে চলে আসে।

বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার আগে নতুন দল তৈরি করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। আর এরই অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় এ রদবদল করলেন তিনি। আসন ছাড়তে হলো টিলারসনকে আর তাঁর জায়গায় এসে বসলেন সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও। যে উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে এত আলোচনা তার সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সংলাপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন টিলারসন। সে সময় তাঁর তৎপরতা ট্রাম্পের পছন্দ হয়নি। গত অক্টোবরে এক টুইটে বিষয়টি নিয়ে খানিক উষ্মাও প্রকাশ করেন ট্রাম্প, ‘ছোট্ট রকেটম্যানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে নিজের সময় নষ্ট করছেন তিনি’ (টিলারসন)। এর পরই গুঞ্জন ওঠে টিলারসন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট বোধবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন আলোচনাও বাতাসে ভাসছিল। ওই মাসেই পররষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিস্ময়করভাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন টিলারসন। সেখানে পদত্যাগের গুজন উড়িয়ে দিলেও প্রেসিডেন্টকে ‘বোকা’ বলার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। বলা হয়ে থাকে তাঁকে ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে বাধ্য করেছিলেন ট্রাম্প।

এর এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় টিলারসনকে হারিয়ে দেবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে জ্ঞানের বহর দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন টিলারসন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বৈঠকে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর চোখ উল্টে হতাশা এবং মতানৈক্য প্রকাশ করেছিলেন টিলারসন।

মাত্র দেড় বছর বয়সী ট্রাম্প প্রশাসন থেকে অবশ্য বরখাস্ত ও পদত্যাগের মিছিল ছোট নয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কাউকে না কাউকে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইট বলেন, যেভাবে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে।’

কূটনীতি টিলারসনের আজীবন পেশ ছিল না। এক্সনমবিলের ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধান নির্বাহী যখন অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন তাঁকে টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বসিয়ে দেন ট্রাম্প। এক্সনমবিলের ব্যবসার কারণেই তাঁর সঙ্গে রাশিয়ার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে সিনেটের মনোনয়নের সময় তীব্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন তিনি। সেসব কাটিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরও স্বস্তি পাননি। বছর ঘুরতেই বিদায় নিতে হলো তাঁকে।

চার সন্তানের জনক টিলারসনের সম্পদের পরিমাণ ৩২ কোটি ৫০ লাখ। কাজেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের করে দেওয়া হলেও অবসর জীবন খুব একটা যন্ত্রণায় কাটবে না তাঁর। সূত্র : বিবিসি।

 


মন্তব্য