kalerkantho


উতলা ট্রাম্প, নীরব উন সংশয় বাড়ছে সবার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উতলা হয়ে উঠেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য—পুরো বিশ্বে এ খবর যখন সংবাদ শিরোনাম, তখন উন একেবারেই নীরব। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সম্ভাব্য ট্রাম্প-উন বৈঠক প্রসঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি। যদিও প্রস্তাবটি তাদেরই ছিল।

তবে ধারাবাহিকভাবে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে আলোচনার প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই তা লুফে নেন তিনি। শুধু সম্মতি নয়, বারবার টুইট করে বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন ট্রাম্প। গত শনিবার এক সমাবেশে গিয়ে তিনি উনের সঙ্গে বৈঠক ‘দুর্দান্ত সাফল্য’ পাবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

যদিও বৈঠক নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। কবে, কোথায় বসবেন তাঁরা, আলোচ্যসূচিই বা কী হবে, সে প্রসঙ্গেও কোনো সংলাপ শুরু হয়নি। ট্রাম্পের সম্মতি দেওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মেলনের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখিনি বা পাইনি। আমি মনে করি, তারা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাইছে এবং নিজেদের অবস্থান গোছানোর জন্য তাদের সময়ের প্রয়োজন।’ এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা না করেই এককভাবে উনের সঙ্গে বসার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।  

ওয়েলিংটনের ভিক্টরিয়া ইউনিভার্সিটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ভ্যান জ্যাকসন বলেন, ‘যে কূটনীতিতে কোনো পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া, বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত সমর্থন থাকে না সেটি কূটনীতি নয়—অহংবোধ। এই পরিস্থিতিতে কূটনীতি সফল হবে বলে ধরে নেওয়ার অর্থ জাদুমন্ত্রে বিশ্বাস রাখা।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া যা চাইছিল ট্রাম্প তাদের হাতে ঠিক সেই জিনিসটিই তুলে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা। যদিও পিয়ংইয়ং পরিবর্তে কী দেবে তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন দেখবে যুক্তরাষ্ট্র কোন প্রক্রিয়ায় আগায় এবং উত্তর কোরিয়ার নিজেদের একটা কৌশল অবশ্যই ঠিক করা আছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির চো সুং-রিউল বলেন, ‘আমার মনে হয়, এত দ্রুত জবাব আসবে উত্তর কোরিয়াও হয়তো তা আশা করেনি।’ এত তাড়াহুড়ায় সাফল্য না ভেসে যায়, এমন সংশয় প্রকাশ করে জ্যাকসন বলেন, ‘ভুল মানুষ নিয়ে, ভুলভাবে, ভুল প্রস্তুতিতে কূটনীতির অর্থ হচ্ছে বিষের বড়ি তৈরি করা।’ তিনি বলেন, ‘উচ্চপর্যায়ে এই কূটনীতি যদি ব্যর্থ হয় তাহলে যুদ্ধের আশঙ্কাই জোরালো হবে।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য