kalerkantho


শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

কাজ হচ্ছে না কারফিউ জরুরি অবস্থায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কাজ হচ্ছে না কারফিউ জরুরি অবস্থায়

ছবি : ইন্টারনেট

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা এবং বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পরও সংখ্যালঘুদের ওপর সিংহলিদের সহিংসতা চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি হামলা হয়। গত বুধবার রাতে সংঘাতকবলিত ক্যান্ডি জেলার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকায় পরদিন সকালে কারফিউ শিথিল করা হয় বটে, তবে পরে আবার সহিংসতা শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, ক্যান্ডি জেলার ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কুরুভিটা এলাকায় একটি মসজিদে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। তবে এতে খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যান্ডি জেলার ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভেলিগামা এলাকায় এক মুসলিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। ক্যান্ডির বাইরে কমপক্ষে দুটি জায়গায় মুসলিমদের সম্পত্তি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার খবর জানিয়েছে পুলিশ।

সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিদের এসব হামলা ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতায় ঘাটতি আছে বলে অভিযোগ করছে মুসলিমরা। জাফর নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী গতকাল বলেন, ‘প্রধান মোড়টায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো। আর ওই সময় কর্তৃপক্ষ অস্ত্র গুটিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখল।’

শ্রীলঙ্কার পুরনো সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব গত রবিবারের ঘটনায় মারাত্মকভাবে উসকে ওঠে। গত রবিবার ক্যান্ডি জেলায় মুসলমানদের হামলায় এক সিংহলি নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সহিংসতা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার ওই জেলায় কারফিউ জারি করার হলেও তাতে কাজ হয়নি। ক্যান্ডির সহিংসতা যেন দেশজুড়ে ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে পরদিন মঙ্গলবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। অনলাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রমাণ পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ক্যান্ডিতে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়, এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট যোগাযোগ। তার পরও মুসলিমদের বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ চলছে। সব মিলিয়ে গত চার দিনে ২০০টির বেশি ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠা ও যানবাহন জ্বালিয়ে দিয়েছে সিংহলিরা।

ক্যান্ডি জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেখানে গত বুধবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। গত বুধবার সন্ধ্যায় এক দাঙ্গাকারীর হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। ওই রাতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকায় গতকাল সকালে দিনেরবেলার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। এরপর অবস্থার আবার অবনতি হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবশ্য এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সংঘাতকবলিত ক্যান্ডি সফর করেন। সফরকালে তিনি দাঙ্গাকারীদের ধরতে পুলিশকে সর্বশক্তি নিয়োগ করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ক্যান্ডির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে গত বুধবার আরো সামরিক সদস্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান এক সামরিক কর্মকর্তা।

ক্যান্ডিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যেও সেখানে পর্যটকদের আনাগোনো বন্ধ নেই বলে জানায় পুলিশ। এ জেলায় রয়েছে শ্রীলঙ্কার পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এক বৌদ্ধমন্দির, যেখান বুদ্ধের দাঁতের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর তালিকাভুক্ত এ মন্দিরের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রদীপ নিলঙ্গ দেলা জানান, সহিংসতার মধ্যেও দলে দলে পর্যটক আর পুণ্যার্থীরা মন্দিরে আসছে।

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা তাঁর দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় জাত কিংবা ধর্ম-নির্বিশেষে প্রত্যেকে যেন নিরাপত্তা, ভালোবাসা অনুভব করে এবং নিজেদের এ দেশের অংশ মনে করে, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য