kalerkantho


‘আলোচনায় বসবেন উন, ছাড়বেন পরমাণু কর্মসূচিও’

নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা নাকি অন্য কিছু?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা নাকি অন্য কিছু?

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি বাতিল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন—দক্ষিণ কোরিয়া তেমনটাই দাবি করেছে। নিজের দেশকে পরমাণু অস্ত্রধর ঘোষণার তিন মাসের মাথায় উনের মনোভাবের এ দিকবদল বিশ্লেষকদের কাছে খুব আশ্চর্যের বটে, তবে তাঁরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের হুমকিতে প্রচণ্ড চাপের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সমঝোতার আগ্রহও এখানে ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

উনের সঙ্গে গত সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং ইউই ইয়ংয়ের বৈঠকের পরদিন সিউল ঘোষণা দেয়, উন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং প্রয়োজনে তিনি পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। তবে এর বিনিময়ে তিনি উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান, যদিও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যা এখনো মেলেনি। উত্তর কোরিয়াও এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উন পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করেননি, বরং গত ডিসেম্বরে তিনি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে তাঁর দেশ। অথচ এখন তিনি পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় রাজি। এ ব্যাপারে আসান ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের বিশ্লেষক গো মাইয়ং হাইয়ুন বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া দ্বার খুলছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চাপটা খুব বেশি।’ না বললেই নয়, পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষান্ত নয়। কোরীয় উপকূলে সিউলের সঙ্গে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া চালায় ওয়াশিংটন, যেটাকে উত্তর কোরিয়ায় সামরিক অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সব সময় দেখে আসছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার কারণ যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ আগ্রহকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে’ নিয়েছেন। উনের বার্তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং ইউই ইয়ং ও গোয়েন্দাপ্রধান সুহ হুন। তবে উনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের জন্য কী বার্তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেটা এখন জানানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চুং।

ট্রাম্পের সঙ্গে সিউলের প্রতিনিধিদের বৈঠকের বিষয়বস্তু যা-ই হোক, আলোচনার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সেটা লুফে নিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাদের মিত্র চীন। তবে চীনের এ আহ্বান, দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহ এবং ট্রাম্পের ইতিবাচক মনোভাব আদতে কতটা কাজ দেবে সে ব্যাপারে বিশ্লেষকরা সন্দিহান। কারণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বলতে উন কী বুঝিয়েছেন, সেটা একদমই স্পষ্ট নয়।

কোরিয়ার ইকোনমিক ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক টোকোলার ভাবনায় দুই ধরনের প্রস্তাবের কথা এসেছে— যুক্তরাষ্ট্র যদি জানায়, উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, উন হয়তো সেটা মেনে নেবেন। অথবা পিয়ংইয়ং কোরীয় উপদ্বীপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাবে। তবে পিয়ংইয়ং তেমন দাবি জানালে ওয়াশিংটন-সিউল মিত্রতা ভেঙে যাবে। পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন আলোচনা কোন দিকে গড়াবে সেটা তো নিশ্চিত নয়ই, এমনকি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে বেশ তাড়াহুড়া হয়ে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য