kalerkantho


সেনাবাহিনীর গুলিতে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’সহ নিহত ছয়

কাশ্মীরজুড়ে বিক্ষোভ কারফিউ জারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি চেক পয়েন্টে সেনাবাহিনীর গুলিতে সন্দেহভাজন দুই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ এবং এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুসলিমপ্রধান রাজ্য কাশ্মীরে গতকাল সোমবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাধীনতাপন্থী দল জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট বিক্ষোভের ডাক দেয়। পুলিশ সহিংসতা এড়াতে কারফিউ জারি করে এবং উপত্যকাজুড়ে স্কুল, কলেজ, দোকানপাট ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। তবে বরাবরের মতোই কাশ্মীরের লোকজন কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভ করে। এ সময় জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন মালিকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া জানান, রবিবার সন্ধ্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের সোফিয়ান জেলার দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক চেক পয়েন্টে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একটি গাড়িকে থামার সংকেত দিলে গাড়িটি থেকে সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে সেনারাও গুলি ছোড়ে। বন্দুকযুদ্ধে পর তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে চারজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি’। তার অল্প দূরেই একটি গাড়িতে তিনটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে একটি অস্ত্র পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, এই তিনজন নিহত জঙ্গির সহযোগী ছিল। তারা জঙ্গিকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। তবে কাশ্মীর রাজ্য পুলিশ বলছে, নিহত বেসামরিক নাগরিকরা জঙ্গিদের সহযোগী কি না, তা তারা তদন্তে করে দেখবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার রাতে যে বিচ্ছিন্নতাবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, তার নাম আমির আহমেদ মালিক। তার মৃতদেহটি পাওয়া যায় বন্দুকযুদ্ধের স্থানে মাটিতে শোয়া অবস্থায়। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র পাওয়া যায়। আর বাকি তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া যায় একটি গাড়িতে। পরে গতকাল সকালে ঘটনাস্থলের ছয় কিলোমিটার দূরে একটি বাগান থেকে লস্কর-ই তৈয়বার এক সদস্য আশিক হুসেইন ভাটের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত নভেম্বর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আর ২৪ বছর বয়সী ছাত্রের মৃতদেহটি গতকাল সকালে উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থলের অল্প দূরে তাঁর নিজের গাড়ির ভেতর থেকে। তিনি মহারাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মফতি টুইটারে বলেছেন, ‘সোফিয়ানে ক্রসফায়ারে পড়ে আবারও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমার হৃদয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট অনুভব করছে।’

গতকাল সকালে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ কারফিউ জারি করে। তারা শ্রীনগরে গতকালের জন্য সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া কাশ্মীরজুড়ে ইন্টানেট সার্ভিস ও রেল চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে। রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে কারফিউ ভেঙ্গেই বিক্ষোভ করে মানুষ। সূত্র : এএফপি, মেইল অনলাইন।


মন্তব্য