kalerkantho


প্রথম ত্রাণবহরের প্রবেশ

ঘৌতায় অভিযান চলবে : আসাদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বিদ্রোহীদের হাত থেকে পূর্ব ঘৌতা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। যদিও এই অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। বন্ধের জন্য আসাদের ওপর চাপও বাড়ছে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পূর্ব ঘৌতায় ত্রাণবাহী ট্রাকবহর প্রবেশ শুরু করেছে গতকাল থেকে। মধ্য ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই প্রথম ঘৌতায় ত্রাণ যাচ্ছে।

পূর্ব ঘৌতাকে বিদ্রোহীমুক্ত করতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিরিয়ার সরাকারি বাহিনী যে বিমান হামলা শুরু করে, তাতে গত রবিবার পর্যন্ত ৭১৯ জন নিহত এবং পাঁচ হাজার ৬৪০ জন আহত হয়েছে। এদের একটা বড় অংশই শিশু। রবিবারও সরকারি বাহিনীর সারা রাতের হামলায় ১৪ জন নিহত হয়।

আসাদ গত রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘৌতার  বেশির ভাগ মানুষ সন্ত্রাস থেকে মুক্তি চায়। এই অভিযান অবশ্যই চলবে।’ তাঁর এই বক্তব্য সরকারি টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌতায় গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য রোজ পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়েছে। আসাদ আরো বলেন, ‘যেসব বেসামরিক ব্যক্তি ছিটমহল ছাড়তে চায় তাদের সে সুযোগ রয়েছে।’ অস্ত্র বিরতি ও চলমান লড়াইয়ের মধ্যে সংশয় আছে বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা নাকচ করে দেন আসাদ।

এদিকে ব্রিটেনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সরকারি বাহিনী ঘৌতার প্রধান শহর দৌমার দিকে আরো তিন কিলোমিটার এগিয়েছে। এখন ঘৌতার ২৫ ভাগেরও বেশি এলাকা তাদের দখলে।

এরই মধ্যে গতকাল পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌতায় ত্রাণবাহী ৪৬টি ট্রাক প্রবেশ করতে শুরু করে। ত্রাণগুলো বিতরণ সম্ভব হলে ২৭ হাজার ৫০০ লোক উপকৃত হবে। তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এই বহরের প্রবেশকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাকগুলো গুদাম থেকে যাত্রা শুরুর আগে ত্রাণের অন্তত ৭০ শতাংশ সরিয়ে নেন সিরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। সরিয়ে ফেলা জিনিসগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রপচার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্রোহীদের যেন চিকিৎসা করা কোনোভাবেই সম্ভব না হয় তা নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা চালিয়েছে তারা।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গতকাল ঘৌতা পরিস্থিতির আশু তদন্ত এবং ত্রাণ ঢুকতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জেনেভায় পরিষদের এক বৈঠক থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে গত রবিবার টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। ঘৌতার ‘মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের জন্য’ তাঁরা সিরিয়া ও রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য