kalerkantho


মিয়ানমারে সাবেক রোহিঙ্গা এমপি অং জ উইন গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমারে সাবেক রোহিঙ্গা এমপি অং জ উইন গ্রেপ্তার

মিয়ানমারে সাবেক রোহিঙ্গা এমপি অং জ উইনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ব্যাবসায়িক কাজে ব্যাংকক যাচ্ছিলেন তিনি। অং জ উইন মিয়ানমারের ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির এমপি।

মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অং জ উইনের বিরুদ্ধে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অং জ উইনকে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরের কাছে মিঙ্গালাডন পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে। পাঁচ দিন আগে আটক করা হলেও তাঁকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করেন, এমন এক কর্মকর্তা নে স্যান লুইন বলেছেন, ‘ইয়াঙ্গুনে বাস করা সব রোহিঙ্গা যে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সরকার এবং সেনাবাহিনী তেমন একটা বার্তা পাঠাচ্ছে। তারা শুধু রাখাইনে বাস করা রোহিঙ্গাকে নয়, পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিতে চায়। তাকে (অং জ উইন) আটকের ঘটনা রোহিঙ্গাদের জন্য একটা সতর্কসংকেত। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে কেউ নিরাপদ নয়। এমনকি কেউ যদি বড় ব্যবসায়ী হয় অথবা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকে, তাহলেও নয়। আরসাকে অর্থ জোগান দেওয়ার কাজে তিনি জড়িত, এটা অসম্ভব বিষয়। কেননা তিনি কখনো সক্রিয় ছিলেন না এবং বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে তিনি এমন কাজে জড়িত হতে পারেন না। কেননা তিনি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।’

২০১৫ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন অং জ উইন। মিয়ানমারে তিনি খ্যাতিমান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ইয়াঙ্গুন এবং নেপিডোতে তাঁর হোটেল ব্যবসা ছাড়া বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটা কনস্ট্রাকশন কম্পানি রয়েছে তাঁর।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকের পরিচালক মার্ক ফার্মানার বলেছেন, ‘তাঁকে যেভাবে আটক করা হয়েছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। যেভাবে আগে সেনাবাহিনী একনায়কতন্ত্র চালাত, এটা তেমনই।’

অং জ উইনের গ্রেপ্তারের খবরে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেননা সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্কের কথা সবার জানা ছিল। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনীতিতে তাঁর আগমন মূলত ব্যাবসায়িক কারণে। তা ছাড়া অং জ উইন সেই সব এমপির একজন ছিলেন, যাঁরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বাঙালি পরিচিতি গ্রহণ করতে চাপ সৃষ্টি করতেন।

২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।



মন্তব্য