kalerkantho


চিনপিংকে ‘আমৃত্যু’ প্রেসিডেন্ট বানানোর অধিবেশন শুরু

চীনে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চীনে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট

শি চিনপিং

চীনের ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের’ (এনপিসি) বার্ষিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে এ অধিবেশনের একটা বিশেষত্ব আছে। সেটা হলো, এবারের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার অধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া এবারের কংগ্রেসে দেশটির সামরিক খাতের বরাদ্দ ৮.১ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী বছর সামরিক খাতে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে দেশটি।

গতকাল সোমবার রাজধানী পেইচিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শুরু হয় বার্ষিক অধিবেশন। প্রথম দিনই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি পড়ে শোনানো হয়। এ সময় উপস্থিত সদস্যদের সবাই প্রস্তাবটিকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।

চীনের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদের বেশি কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারবেন না। সেই হিসাবে ২০২৩ সালে চিনপিংয়ের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস হলে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের পরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। এ ছাড়া তিনি পার্টি ও সামরিক বাহিনীরও প্রধান থাকবেন। ৬৪ বছর বয়সী চিনপিংকে এখন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও জেদংয়ের পর সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনীতিক ধরা হয়। এমনকি তাঁর মতাদর্শকে ‘শি চিনপিংয়ের সমাজতান্ত্রিক চিন্তা’ হিসেবে এরই মধ্যে পার্টির গঠনতন্ত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটির ওপর আগামী ১১ মার্চ পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হবে। কারণ এনপিসি সদস্য তাঁরাই হন, যাঁরা পার্টির প্রতি খুবই অনুগত।

গতকালের অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের যে প্রস্তাবটি পড়ে শোনানো হয়, তাতে  বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়েছে। সবাই জানিয়েছে, তারা সংবিধান সংশোধনের পক্ষে একমত। চিনপিংকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা চলছে। এসব সমালোচনার ওপর নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে দেশটির বেশির ভাগ গণমাধ্যম সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকও মনে করেন, আরো বেশি সময় ধরে চিনপিংয়ের ক্ষমতায় থাকা উচিত। হুয়া পো নামের এক বিশ্লেষক বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরই দল ও রাষ্ট্রের ভেতরকার সব হুমকি মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিনপিং। আর এ কাজ করার জন্য ১০ বছর যথেষ্ট নয়। চীনের সরকার ব্যবস্থাটাই এমন যে, এখানে কঠোর একজন নেতা দরকার। এ ক্ষেত্রে চিনপিংয়ের যোগ্য উত্তরসূরিও এখনো তৈরি হয়নি।’

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন চিনপিং। সমালোচনা উপেক্ষা করে দুর্নীতির দায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও পার্টির লোকজনসহ প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তিকে শাস্তি দেন তিনি।

সামরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি : অধিবেশনের প্রথম দিনেই আগামী অর্থবছরে সামরিক বরাদ্দ ৮.১ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আগামী বছর সামরিক খাতে চীন সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে। এর বাইরে ২০১৮ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য