kalerkantho


মাদকবিরোধী অভিযান

ফিলিপাইনে তিন মাসে মারা গেছে আরো শতাধিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী লড়াইয়ে পুলিশ বাহিনী আবার যোগ দেওয়ার পর শতাধিক সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে। ফিলিপাইনের এক কর্মকর্তা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানান। দুতার্তের মাদকবিরোধী লড়াইয়ে হতাহতের ঘটনা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার করে ২০১৬ সালে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দুতার্তে। তিনি ক্ষমতায় বসার পর মাদক কারবারে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে হত্যা করে পুলিশ—এমনটাই দাবি মানবাধিকারকর্মীদের।

দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযান প্রচণ্ড সমালোচনার জন্ম দিলে গত অক্টোবরে তিনি এ কাজের ভার পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার হাতে দেন। তিনি অবশ্য এটাও বলেন, এ সংস্থার মাত্র দুই হাজার কর্মকর্তা মাদক নির্মূল করতে পারবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে আবার পুলিশকে যোগ দিতে বলেন। দুতার্তের আদেশে পুলিশ পুনরায় যোগ দেওয়ার পর শতাধিক সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জন বুলালাকাও জানিয়েছেন, গত ৫ ডিসেম্বর থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ১০২ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছে। ৫ ডিসেম্বরের আগের সংখ্যাটা তিনি জানাতে পারেননি। তবে সরকারি হিসাবে ৫ ডিসেম্বরের আগে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা চার হাজার ২১ জন, যদিও সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী সংখ্যাটা এর চার গুণ। এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট দুতার্তে মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ করছেন বলে সমালোচকদের দাবি।

গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌঁসুলি জানান, এসব অভিযোগের ব্যাপারে তিনি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। এদিকে ফিলিপাইন সরকার জানায়, তদন্তের জন্য জাতিসংঘ দূতকে ফিলিপাইনে প্রবেশের অনুমতি দিতে তারা আগ্রহী।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট দুতার্তে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উদ্দেশে স্পষ্ট বলে দেন, ‘তারা (জাতিসংঘ) যদি আপনাদের অপরাধের ব্যাপারে প্রশ্ন করে, তবে উত্তর দেবেন না। আর যদি তারা জানতে চায়, কেন আপনারা এ কাজ করছেন, তবে বলবেন, আমরা কমান্ডার ইন চিফের আদেশ মানছি।’

সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য