kalerkantho


বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ

লাখো কোটি ডলার খরচের সুফল মিলবে হাতেনাতে

ল্যানচেটের প্রতিবেদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বৈশ্বিক উষ্ণতা ঠেকাতে চাইলে বিপুল অর্থ খরচ হবে, সেটা সত্য বটে। সেই সঙ্গে এটাও সত্য, ওই অর্থ ব্যয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তার চেয়ে অনেক বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে স্বাস্থ্য খাতে। বায়ুদূষণজনিত রোগ থেকে মানুষ রেহাই পাওয়ার মাধ্যমে এ অর্থ সাশ্রয় হবে বলে দাবি করেছে একদল বিজ্ঞানী।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানচেট প্ল্যানেটারি হেলথ গতকাল শনিবার এক গবেষণা নিবন্ধে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যয় এবং এর সুফল তুলে ধরে। এতে বলা হয়, ২০২০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখতে হলে খরচ করতে হবে ২২ লাখ ১০ হাজার কোটি থেকে ৪১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। আর তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে চাইলে খরচ হবে ৩৯ লাখ ৭০ হাজার কোটি থেকে ৫৬ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার।

আকাশচুম্বী এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে তা-ই নয়, কমানো যাবে বায়দূষণজনিত মৃত্যুর হার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা গেলে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০ কোটির মধ্যে রাখা সম্ভব। আর যদি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের আকাশ-কুসুম পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়, অর্থাৎ বর্তমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রির চেয়ে বেশি বাড়তে দেওয়া না হয়, তাহলে ওই মৃত্যুর সংখ্যা ৯ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব। পাশাপাশি দূষিত বায়ুর কারণে সৃষ্ট রোগবালাইয়ের পরিমাণ কমা এবং এ বাবদ খরচ কমার ব্যাপার তো থাকছেই। ফলে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের লাগাম টানা গেলে সব মিলিয়ে বিশ্ববাসী যে সুফল ভোগ করবে, সেটার আর্থিক মূল্য আরো বেশি। সবচেয়ে বেশি সুফল ভোগ করবে বায়ুদূষণে জর্জরিত ভারত ও চীন।

গবেষকদলের একজন বাস্ক সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের বিজ্ঞানী আনিল মারকান্দিয়া বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয় কমানোটা বায়ুদূষণ কমানোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর দাবি, বায়ুদূষণ কমানো গেলে অন্যান্য যেসব সাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যাবে, সেগুলো হিসাবের মধ্যে ধরলে সুফলের আর্থিক অঙ্কটা আরো অনেক বড় হবে।

মারকান্দিয়া আশা করছেন, যে হিসাব তাঁরা করে দেখিয়েছেন, তাতে হয়তো নীতিনির্ধারকরা বায়ুদূষণ কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনরোধে উচ্চকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উৎসাহী হবেন। না বললেই নয়, ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে কাজ করতে একমত হয়েছে। তারা যদি চুক্তি বাস্তাবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, তার পরও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে যাবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য