kalerkantho


বিশ্লেষকদের অভিমত

পুতিনের দম্ভে ক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পুতিনের দম্ভে ক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে না

বিশ্বের অন্যতম পরমাণু শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেওয়ার মতো পারমাণবিক শক্তি রাশিয়ার আগে থেকেই আছে। এর ওপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ এক অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে এবং এটাকে ঠেকানোর মতো ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তবে পুতিনের হুমকিতে খুব একটা কাজ হবে না এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষমতার ভারসাম্যে তেমন পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুতিন বৃহস্পতিবার বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে জানান, তাঁর দেশের সেনাবাহিনীর হাতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পারমাণবিক ওয়ারডেহ বহনে সক্ষম নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি পানির নিচে চলাচলে সক্ষম পরমাণবিক ড্রোনের কথাও জানান তিনি। স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণ দেওয়ার সময় একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তিনি এসব অস্ত্রের ক্ষমতা উপস্থাপন করেন এবং বলেন, ‘কেউ আমাদের কথা শোনে না। এখন আমাদের কথা শুনুন।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয় ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক উন্নয়নের ঘোষণা এসেছে গত মাসেই। এবার এলো রাশিয়ার বক্তব্য। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য রাশিয়ার ঘোষণার মধ্যে নতুন কিছু খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হুকাবে স্যান্ডার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন যে ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই যেটা জানত, কিন্তু রাশিয়া সেটা এত দিন অস্বীকার করেছে। সেটা হলো রাশিয়া সরাসরি চুক্তি ভেঙে এক দশক ধরে অস্থিতিশীল অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে।’

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট রুশ প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ব্যাপারে বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে, তিনি দর্শকদের নিয়ে খেলছেন।’ তিনি মনে করেন, আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের কৌশল হিসেবে পুতিন এসব বক্তব্য দিয়েছেন এবং নতুন অস্ত্র নিয়ে বড়াই করেছেন। গত বৃহস্পতিবার পুতিন যে ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করেছেন, সেটাকে ‘সস্তাদরের’ অ্যাখ্যা দিয়ে নাওয়ার্ট আরো মন্তব্য করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পারমাণবিক হামলার’ ভিডিও দেখাটা দুর্ভাগ্যজনক।

রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন মনে না হলেও এটা স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, পুতিনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র প্রতিযোগিতা একেবারে সামনে চলে এলো।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ টমাস কারাকো মনে করেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের ভূমিকা এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে রাশিয়ার যে চিন্তা-ভাবনা, পুতিনের গত বৃহস্পতিবারের ঘোষণা সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ক্রিমিয়াকে অধিভুক্ত করে নেওয়া, পূর্ব ইউক্রেনে সামরিক অনুপ্রবেশসহ আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে রাশিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেটা আমলে নিয়ে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে জোর দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশিয়ার গতিবিধি নজরে রেখে যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ঘোষণায় সেটা স্পষ্ট হয়েছে। ফলে রাশিয়া নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের ক্ষমতা নিয়ে যত কথাই বলুক, তাতে বৈশ্বিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটার সম্ভাবনা কম। সূত্র : এপি।



মন্তব্য