kalerkantho


তালেবানকে ঘানির শান্তির প্রস্তাব

আফগান যুদ্ধের ইতি দেখছে যুক্তরাষ্ট্রও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আফগান যুদ্ধের ইতি দেখছে যুক্তরাষ্ট্রও

আফগানিস্তানে সরকার ও তালেবানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। এর পেছনে রয়েছে কাবুলে সদ্যসমাপ্ত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেছেন, শান্তি আলোচনায় যোগ দিলে তালেবানকে রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গত মঙ্গল ও বুধবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ছাড়াও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তালেবানের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

২০১১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তালেবান সরকারের পতন ঘটে। এর পর থেকেই সংগঠনটি গৃহযুদ্ধে লিপ্ত আছে। এখন পর্যন্ত সেই যুদ্ধ অবসানের তেমন কোনো লক্ষণ নেই। এবারের বসন্তেও বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির হামলার পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় বুধবার আশরাফ ঘানি নতুন করে শান্তির ডাক দেন। তিনি বলেন, তালেবান চাইলে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই শান্তি আলোচনায় বসতে পারে। এমনকি আলোচনায় এলে রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতিও দেওয়া হতে পারে তাদের।

আফগান বাহিনীর সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সহায়তায় আফগান বাহিনী তালেবানের বিরুদ্ধে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু আফগান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উপসংহার হলো, সেখানে তালেবানকে নির্মূল করা আফগান বাহিনীর পক্ষে সম্ভব নয়। আবার তালেবানের পক্ষে কাবুল দখল করার অসম্ভব। এই যুক্তিতে আশরাফ ঘানির আহ্বানকে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট জানান, কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়া আশরাফ ঘানি তালেবানকে যে আহ্বান জানিয়েছেন, ‘ওয়াশিংটন তাতে খুশি হয়েছে।’

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই গণতন্ত্রের বিপরীতে নিজেদের কট্টর ইসলামপন্থী মতাদর্শ নিয়ে তালেবান অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে। এ অবস্থায় ‘গণতন্ত্রকে মেনে নেওয়া’ এবং ‘নারীর ওপর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া’র মতো পূর্বশর্ত ছাড়া তালেবানকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া ইতিবাচক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনা সফল হলে তালেবান অবধারিতভাবে আল-কায়েদার মতো বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। বিপরীতে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে নিজেদের আলাদা করণীয় নির্ধারণ করবে তারা।

এর বাইরে আশরাফ ঘানির আরেকটি বিষয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি হলো, এবারের সম্মেলনে তিনি তালেবানকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের কোনো সমালোচনা করেননি। এ ধরনের সমালোচনা সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ঘানির আহ্বানের পর তালেবানের স্পষ্ট কোনো জবাব এখনো মেলেনি। এক বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি তাদের সঙ্গে সমঝোতায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য