kalerkantho


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যৌনদাসী ইস্যু

সংকট নিরসনের দাবি করতে পারে না জাপান : মুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের যৌন দাসত্বের ইস্যুটির নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবি জাপান করতে পারে না। ওই ঘটনার জন্য ভুল স্বীকার করে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বিতর্কিত যৌনদাসী (কমফোর্ট ওমেন) ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে কয়েক দশক ধরে টানাপড়েন চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধে প্রায় দুই লাখ নারীকে জাপানি সেনারা যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে। এই ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই ছিল কোরীয়। বাকিরা চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের।

মুন জায়ে ইনের পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই ২০১৫ সালে টোকিওর সঙ্গে একটি চুক্তি করেন, যেখানে এই ইস্যু নিয়ে সিউল আর কথা বলবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য একটি ফাউন্ডেশনে ১০০ কোটি ইয়েন (৮৯ লাখ ডলার) আর্থিক সহায়তা দেয় জাপান। তবে এই চুক্তিকে ‘ভুল’ সমাধান আখ্যায়িত করে মুন বলেছেন, ঘটনার দায় মাথায় নিয়ে জাপানের মন থেকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

জাপানের ঔপনেবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯১৯ সালে বিদ্রোহের বার্ষিকী উপলক্ষে মুন বলেন, ‘সেবাদাসী ইস্যু শেষ হয়ে গেছে—এটি জাপন সরকার বলতে পারে না। শেষ বলে ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঢেকে ফেলে যায় না। মর্মান্তিক ইতিহাস সমাধানের ভালো পথ হলো—ইতিহাস স্মরণ করা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া।’ তিনি প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কের খাতিরে যাতে প্রতিবেশী দেশ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাপান সরকারের মুখপাত্র ইওশিহাইড সুগা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মুন সেবাদাসী ইস্যুটি উত্থাপন করেছেন, যদিও এই বিষয়টি ২০১৫ সালের জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চুক্তিতে শেষ হয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য চুক্তির বিরুদ্ধাচরণ করে। আমরা এটি একেবারেই গ্রহণ করতে পারি না; এ ধরনের আচরণ খুব দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরব এবং কূননৈতিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানাব।’ সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য