kalerkantho


সিরিয়া সংকট

রুশ যুদ্ধবিরতির সুবিধা পাচ্ছে না ঘৌতাবাসী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রুশ যুদ্ধবিরতির সুবিধা পাচ্ছে না ঘৌতাবাসী

সিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যুষিত পূর্ব ঘৌতায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে সরকার এবং এর মধ্য দিয়ে তারা জাতিসংঘ তো বটেই, সংস্থার নিরাপত্তা পরিষদেরও অবমাননা করেছে—এমন অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে গত বুধবার পর্যন্ত একজন সাধারণ মানুষও পূর্ব ঘৌতা ছেড়ে বের হতে পারেনি। দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার মানবিক বিরতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সেখান থেকে বের না হওয়ার দায় সেখানকার বিদ্রোহীদের ওপর চাপাচ্ছে রাশিয়া।

২০১৩ সাল থেকে সরকারবিরোধীদের দখলে থাকা পূর্ব ঘৌতায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিরতিহীন বোমা হামলা করছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত সেনাবাহিনী। এর সঙ্গে রাশিয়ার বিমানও যোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব হামলায় গত ১০ দিনে পূর্ব ঘৌতায় প্রায় ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নয়নে গত শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রস্তাব পাস করলেও তাতে কাজ হয়নি। এরপর গত সোমবার রাশিয়া ঘোষিত দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিও কাজে দিচ্ছে না। রাশিয়ার অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের স্বার্থে তাদের পূর্ব ঘৌতা থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে বিদ্রোহীরা। মানুষকে ভয় দেখিয়ে অথবা তাদের বের হওয়ার জন্য নির্ধারিত করিডরে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীরা জনসাধারণকে আটকে রাখছে।

গত বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের সভায় রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া দাবি করেন, দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে তাঁর দেশ সব রকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু করিডর লক্ষ্য করে বিদ্রোহীদের মর্টার হামলায় সব চেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আব্দেল রাহমানের বক্তব্যে রাশিয়ার দাবির খানিকটা সত্যতা পাওয়া যায়। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময় বিরতিটা প্রায় পুরোপুরি কার্যকর করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাশিয়া ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পাঁচ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনীর হামলায় মাত্র দুজন নিহত হয়। গত বুধবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়ে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি; যদিও বিরতি শেষ হওয়ার পরমুহূর্তেই যুদ্ধবিমানের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। এদিকে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত ক্যালি কুরি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য সর্বসম্মত আহ্বান সত্ত্বেও (সিরিয়ার) সরকারপক্ষের হামলা চলছে। এ ধরনের হামলায় নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের প্রতি সিরিয়ার পূর্ণ মাত্রার অবমাননা প্রকাশ পেয়েছে। রাশিয়ার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ‘ঘোর বিরোধিতা’ বলেও মন্তব্য করেন কুরি।

সংবাদকর্মীরা জানান, পূর্ব ঘৌতার ওয়াফিদিন চেকপোস্টে অপেক্ষারত সহায়তা বহরের গাড়িগুলো নিশ্চল হয়ে আছে। এলাকা ছেড়ে কেউ বের হচ্ছে না এবং সহায়তা বহরও সেখানে ঢুকছে না। সেখানে দায়িত্বরত এক সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা পূর্ব ঘৌতা থেকে বের হতে চায়, তাদের সবার জন্য রাস্তা খোলা; কিন্তু কেউ আসছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পাঁচ ঘণ্টার এ মানবিক বিরতি দেওয়ার কোনো মানে নেই।

রাশিয়ার প্রতিদিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে কাজ হোক বা না হোক, নিরাপত্তা পরিষদে গত শনিবার পাস হওয়া ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।


মন্তব্য