kalerkantho


আফগানিস্তানে তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ

খোলা চিঠির জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আফগানিস্তানে তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ

তালেবানকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব রেখে তাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তালেবান প্রথমে খোলা চিঠি এবং পরে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশের পর গতকাল বুধবার এ পরিকল্পনার কথা জানালেন আফগান প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে ওই খোলা চিঠি প্রকাশের দুই সপ্তাহের মাথায় গতকাল যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আফগান সরকার ছাড়া কোনো আলোচনায় বসে না এবং তালেবানরাও শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয়।

গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে আরো বেশি পরিমাণে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার জবাবে তালেবানও হামলা বৃদ্ধি করেছে।

এই অবস্থায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে আফগান তালেবান। চিঠিতে ১০০ বছরেও এই যুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনার আগ্রহের কথা জানানো হয়। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো জবাব না আসায় গত সোমবার একটি বিবৃতিতে আফগান তালেবান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার আগ্রহ ব্যক্ত করে। তবে একবারও আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ ব্যক্ত করেনি তালেবান। এর দুই দিনের মাথায় গতকাল আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল।

আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাজধানী কাবুলে শুরু হওয়া আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে গতকাল প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি তালেবানরা যাতে একটি রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে জন্য তিনি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অস্ত্রবিরতি প্রয়োজন রয়েছে। তালেবানকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এবং আস্থা সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।’ তালেবানদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে। আপনারা শান্তি গ্রহণ করুন....এবং চলুন আমরা দেশে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসি।’ একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, জঙ্গিদেরও আগফান সরকার ও সংবিধানকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল তালেবানের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনাও প্রত্যাখ্যান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই এই চিঠি দেখেছি এবং চিঠিটি সম্পর্কে সচেতন রয়েছি। আফগানিস্তানে যেকোনো শান্তি আলোচনা আফগানদের (সরকার) নেতৃত্বে এবং আফগানদের অধীনে হতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের এই নীতি চলে এসেছে।’ তবে ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে’ তালেবান শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাওয়ার্ট বলেন, ‘আমরা আশা করি শেষ পর্যন্ত তারা তা (আফগান সরকারের সঙ্গে বৈঠক) করবে। কারণ আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।’ তিনি বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে আমরা মনে করি না আফগানিস্তানে কোনো সামরিক সমাধান রয়েছে। চূড়ান্তভাবে তা রাজনৈতিক সমাধানই হতে হবে। সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো কাজ।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা আফগান সরকারের ওপর নির্ভর করলেও নিশ্চিতভাবেই তাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূমিকা থাকবে। সূত্র : এএফপি, পিটিআই।


মন্তব্য