kalerkantho


সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতায় পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত

নিরাপত্তা পরিষদে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপত্তা পরিষদে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত

ছবি: ইন্টারনেট

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ওই এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে অসুস্থ ও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্যই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার রাশিয়া সমর্থন দেওয়ার পর প্রস্তাবটিতে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মতি মেলে।

তবে কখন এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু না বলে জানানো হয়েছে, ‘অবিলম্বেই’ এটা হওয়া উচিত। সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা এটাও বলেছে, যদি তাদের ওপর ফের হামলা হয় তাহলে তারা এর জবাব দেবে। পর্যবেক্ষকরাও চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। কারণ প্রস্তাবের আওতায় ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের সিরীয় সহযোগীদের রাখা হয়নি।

গত রবিবার থেকে রাজধানী দামেস্কের কাছে বিদ্রোহীদের শক্তিশালী ঘাঁটি পূর্ব ঘৌতায় সরকারি বাহিনীর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চলছে। সেখানে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অনুমোদনের পরও সেখানে বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের পর রাশিয়ার বিমানবাহিনীর সহায়তায় সিরীয় জঙ্গি বিমানগুলো ইস্টার্ন ঘৌতা শহরে নতুন করে অভিযান চালিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, দামেস্কের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকায় শনিবার রাতে সরকারি বাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। শনিবারের হামলায় আট শিশুসহ অন্তত ৪১ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ নিয়ে বিগত এক সপ্তাহে ওই এলাকায় অন্তত ১২৭ শিশুসহ ৫১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদিকে রাশিয়া এসব হামলায় অংশ নেয়নি বলে জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, পূর্ব ঘৌতায় যুদ্ধবিরতির জন্য বৃহস্পতিবার থেকে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার চেষ্টা চললেও বিশ্বশক্তিগুলো একমত না হওয়ায় দেরি হচ্ছিল। সিরীয় সরকারের মিত্র রাশিয়া এসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবে পরিবর্তন আনার কথা বললে পশ্চিমা কূটনীতিকরা একে মস্কোর সময়ক্ষেপণের চেষ্টা অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করছিলেন।

শনিবারের প্রস্তাবের প্রাথমিক খসড়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা ও নুসরা ফ্রন্টকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখার কথা বলা হলেও রাশিয়া এর সঙ্গে জঙ্গিদের ‘সহায়ক গোষ্ঠীগুলোকেও’ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায়।

পরে চূড়ান্ত প্রস্তাবে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সহযোগী ‘ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও সম্পদকে সুনির্দিষ্ট করে এসবের ওপর হামলাকেও যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে রাখা হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত প্রস্তাবটি দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। আসাদ বাহিনী এ প্রস্তাব মানবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহের কথাও জানান তিনি। তিনি ‘মধ্যস্থতা দীর্ঘায়িত’ করার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেন। নিকি হ্যালি বলেন, ‘প্রস্তাব অনুমোদনে তিন দিন লেগেছে, এর মধ্যেই বোমা ও গুলিবর্ষণে অনেক মা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছেন।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলছেন, যুদ্ধে নিয়োজিত সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। বিদ্রোহী অধ্যুষিত পূর্ব ঘৌতার পরিস্থিতি নিয়ে অতিরঞ্জনেরও প্রতিবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি যে ভয়াবহ তা আমরা জানি। সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও দরকার। তবে শুধু পূর্ব ঘৌতাই নয়, পুরো সিরিয়াতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে এলিসি প্রাসাদ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল গতকাল রবিবার টেলিফোনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘আগামী দিনগুলোতে’ অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে চাপ দেবেন। নিরপত্তা পরিষদের ভোটের পরপরই এলিসি প্রাসাদের বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য