kalerkantho


ইউনিসেফের প্রতিবেদন

জন্মের দিনই মরছে ১০ লাখ শিশু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জন্মের দিনই মরছে ১০ লাখ শিশু

বিশ্বে প্রতিবছর জন্মের প্রথম দিনেই ঝরে যাচ্ছে ১০ লাখ প্রাণ। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, সচেতনতার অভাব এবং পর্যাপ্ত সরকারি সেবার অভাবে সদ্যোজাত শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

ইউনিসেফ সদ্যোজাত শিশু মৃত্যুহারের পাশাপাশি আরেকটি তথ্য তুলে ধরে। তারা জানায়, বিশ্বজুড়ে ১৬ লাখ শিশু জন্মের প্রথম বছরেই মারা যায়। শিশু মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি পাকিস্তান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (সিএআর) ও আফগানিস্তানে। এ তিনটি দেশে বছরে প্রতি হাজারে যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৬, ৪২ দশমিক ৩ ও ৪০ সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশে এ হার ২০ দশমিক ১। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর জানান, ৮০ শতাংশ সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয় অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ ও প্রসবকালীন জটিলতার কারণে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর সেবাসহ অন্যান্য সুবিধা এবং পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার কারণে গর্ভবতী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে ইউনিসেফের অভিমত।

পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে হেলথ ওরিয়েন্টেড প্রিভেনশন এডুকেশনের চেয়ারপারসন মুবিনা আগবোয়াতওয়ালা বলেন, ‘সার্বিক পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। বাড়িতে প্রসব, গর্ভবতীর রক্তশূন্যতা এবং শোচনীয় শৌচাগার ব্যবস্থাসহ অনেক কারণ রয়েছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘হাত ধোয়ার মতো একটি সাধারণ কাজের মাধ্যমে (শিশু) মৃত্যুহার অর্ধেকে নেমে আসবে।’ দারিদ্র্য, অপুষ্টি, বাল্যবিয়ে পাকিস্তানে শিশুমৃত্যুতে বড় ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তানে ৮০ শতাংশ শিশু অপুষ্ট অবস্থায় জন্ম নেয় বলে জানায় ইউনিসেফ।

মধ্য আফ্রিকার দেশ সিএআরের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সেখানকার বহু নারী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং শিশুর অকালমৃত্যুতে এর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ইউনিসেফ জানায়। আরো যে তথ্য না দিলেই নয়, সেটি হলো দেশটির একমাত্র শিশু হাসপাতালটি রাজধানী বাঙ্গুইয়ে। বিনা মূল্যের এ হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগীকে সেবা দেওয়া হয় বটে, তবে কর্মী আর রসদ সরবরাহের অভাব থাকায় সন্তোষজনক সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। এ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতি ৩০ শিশুর প্রায় দুটির মৃত্যু ঘটে। যুদ্ধকবলিত আফগানিস্তনের পরিস্থিতিও শোচনীয়।

ইউনিসেফের স্বাস্থ্য শাখার প্রধান স্টেফান পিটারসন শিশুমৃত্যুর জন্য বাল্যবিয়ে ও অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীর গর্ভধারণকে উল্লেখযোগ্য কারণ বলে মনে করেন। বাল্যবিয়ে বন্ধে বিশ্বজুড়ে তৎপরতা চালানো গার্লস নট ব্রাইডের তথ্য মতে, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দেড় কোটি মেয়ের ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। এসব মেয়ে গর্ভধারণ করলে তা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। পিটারসন বলেন, ‘আমরা এমন এক অবস্থানে পৌঁছতে চাই, যেখানে আর কোনো শিশু শিশুর জন্ম দেবে না।’ সূত্র : আলজাজিরা।



মন্তব্য