kalerkantho


ইরানে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত

আরোহীদের পরিণতি জানার অপেক্ষায় স্বজনরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আরোহীদের পরিণতি জানার অপেক্ষায় স্বজনরা

ছবি : ইন্টারনেট

ইরানে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও হতাহতদের সন্ধানে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিমানের একটি ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার খবর সরকারি গণমাধ্যম জানায়। তবে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সে খবর নিশ্চিত করেনি। এ ছাড়া ৬৬ আরোহীরও সন্ধান মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে আরোহীদের পরিণতি জানতে জাগরোস পাহাড়ি অঞ্চলে অপেক্ষার প্রহর গুণছে তাদের স্বজনরা।

গত রবিবার সকালে ইরানের অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীবাহী একটি বিমান ৬৬ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। ‘আসেমান এয়ারলাইনস’-এর ‘এটিআর ৭২-৫০০’ মডেলের বিমানটি রাজধানী তেহরান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশের ইয়াসুজ শহরে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২৫ বছরের পুরনো বিমানটি জাগরোস পাহাড়ি অঞ্চলের দেনা পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই পাহাড়টি গন্তব্যস্থল ইয়াসুজ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে এবং রাজধানী তেহরানের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আসেমান এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়, সব আরোহী নিহত হয়েছে। কিন্তু পরে সংস্থাটি আরেকটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্ঘটনাস্থল দুর্গম ও পাহাড়ি হওয়ায় আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। এ কারণে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।’

বিধ্বস্ত হওয়ার পরই দেনা পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে রেড ক্রিসেন্টের ১২টি দল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে রবিবার সন্ধ্যার দিকে তল্লাশি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘প্রচণ্ড বাতাস, ভারী তুষারপাত, আলো স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকারীরা দেনা পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারছেন না। এ অবস্থায় সোমবার (গতকাল) সকাল পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।’

গতকাল সকালে ফের তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় তাঁরা খুব একটা অগ্রসর হতে পারছেন না। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কয়েক শ পর্বতারোহী, প্রশিক্ষিত কুকুর ও ড্রোন তল্লাশি কার্যক্রমে নিয়োজিত আছে। এ ছাড়া তল্লাশি কার্যক্রমে অংশ নিতে বিমান-নিরাপত্তাবিষয়ক ফরাসি সংস্থা—বিইএর একটি বিশেষজ্ঞ দল গতকাল সন্ধ্যার দিকে ইরানে পৌঁছানোর কথা। উল্লেখ্য, ভূপৃষ্ঠ থেকে পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আরোহীদের খবর জানতে এরই মধ্যে তাদের স্বজনরা দেনা পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছেছে। আবার অনেকে অপেক্ষা করছে তেহরানের বিমানবন্দর এলাকায়। ওই বিমানের এক যাত্রীর স্ত্রী বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে খারাপ কিছু ঘটেছে।’

উল্লেখ্য, ইরানের বিমানসেবার সবচেয়ে সংকটের জায়গা হলো, তাদের প্রায় সব বিমানই পুরনো। এ কারণে গত কয়েক বছরে সেখানে বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর নতুন বিমান কেনার ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা। পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশ তাদের ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে ২০১৫ সালের এক চুক্তির মধ্য দিয়ে বেশির ভাগ নিষেধাজ্ঞাই তুলে নেওয়া হয়েছে। সূত্র : বিবিসি; এএফপি।



মন্তব্য